সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০০৯

সেরা কর্মীর সম্মাননা গ্রহণ করছি

কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২০০৮ সালের সেরা কর্মীর সম্মাননা গ্রহণ করছি।
ঘটনাটা ঘটেছিলো ২০০৯ এর ২৭ জুলাই।
বি:দ্র: ছবির সৌন্দর্যবর্ধনের প্রয়োজনে আমাদের ব্র্যান্ড ম্যানেজার সাহেবের চেহারা ক্যামেরার সামনে স্পস্ট দেখা গেলেও অতিশয় অস্পস্ট ও ক্ষীণ চেহারার লোকটা যে সত্যি সত্যিই আমি এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

রবিবার, আগস্ট ০২, ২০০৯

ইতিহাসের পদধ্বনি: প্রথম পর্ব


শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
মানব বসতির বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে উঠেছিলো সভ্যতম অনেক নগরী। নাগরিক সুবিধার বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল এ নগরীগুলো মানুষ গড়ে তুলেছিলো নিজেদের প্রয়োজনেই। নিজস্ব বুদ্ধিমত্তার যে আলাদা গুণ রয়েছে মানুষের মাঝে, এ কারণেই তাদের পÿে প্রকৃতির অনেক অনুষঙ্গকে নিজেদের মতো গড়ে নেয়া সম্ভব। কিন্তু এগুলো টিকিয়ে রাখাও কি মানুষের সাধ্যের ভেতর? নাহ, যদি তাই হতো তবে পৃথিবীতে গড়ে উঠা অনেক সভ্যতাই হারিয়ে যেতোনা সীমাহিন শূন্যে। প্রাচীন নগরীগুলোর মাঝে কোনটির স্থান এখন কেবল ইতিহাসের পাতায়। আবার কোনটির খবর হয়তো বর্তমান পৃথিবীর কেউ জানেইনা। অপরদিকে কালের ধূলোয় পুরনো অনেক নগরীই সৃস্টির পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ধরে রাখতে পেরেছে প্রাণশক্তি। এখনো প্রাণোচ্ছল সেই নগরীগুলোর শিরা উপশিরায় বিরাজ করে জীবণের উষ্ণতা। প্রকৃতি তার আপন নিয়মেই গিলে ফেলে সভ্যতম অনেক জনপদকে। আবার আপন নিয়মেই সময়ের সাথে টিকিয়ে রাখে কোন কোন নগরীর প্রাণ। প্রকৃতির এই নিয়মকে বেঁধে দিয়েছেন যে সত্ত¡া, তাঁর ইচ্ছার উপরই নির্ভর করে জীব, জগত, নগর এবং সভ্যতার উত্থান পতন। এ পরম সত্ত¡ার সাথে তুলনীয় নয় অন্য কোন কিছুই। কিন্তু তবুও কালের অভিযাত্রায় বিভিন্ন পৌত্তলিক নগরীতে পূজনীয় করে তোলা হয়েছিল অন্য কোন সত্ত¡াকে। অবাক হতে হয় এই ভেবে যে, কালের স্রোতে ভেসে যাওয়া অসংখ্য নগরীর প্রায় সবই ছিলো পৌত্তলিকতায় পরিপূর্ণ। অন্যদিকে গড়ে উঠার পর হাজার হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে বেঁচে থাকা নগরীগুলোতে পাওয়া যায়না এতটুকু পৌত্তলিকতার ছুঁয়া। এমন কয়েকটি প্রাচীন শহরই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যেগুলো থেকে প্রতিনিয়ত ভেসে আসছে ইতিহাসের পদধ্বনি।

জাজিয়ানটেপ
কোথাও জলপাই বন, কোথাও ভিনেয়ার্ড কিংবা পে¯Íাবাদমের তরুবিথী আগলে রেখেছে প্রাচীন এ শহরটিকে। ভ’মধ্য সাগরের ১২০ কিলোমিটার পূর্বেই এর অবস্থান। অদূরে বয়ে গেছে ইউফ্রেটিস নদীর সরু একটি প্রবাহ সাকিরসুঁই। ইতিহাসের কোন এক ভাঁজে এ শহরটি গড়ে উঠেছিলো নাগরিক জীবণের উপযোগী হিসাবে। এখানকার প্রাচীন স্থাপনাগুলো এখনো শব্দ তুলে মাটি এবং মানুষের হৃদয় নিংড়ানো পললের। এখানে কান পেতে এখনো অনুভব করা যায় প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার স্পন্ধন।
পৃথিবীর প্রাচীনতম শহরগুলোর মাঝে জাজিয়ানটেপ হলো সবচেয়ে পুরনো। ধারণা করা হয় তুরস্কের এ শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আজ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার বছরেরও (খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৫০) আগে। সময়ের স্রোতে প্রবাহিত হয়ে অনেক শহর গড়ে উঠলেও আবার এ স্রোতেই বিলীন হয়ে গেছে সেগুলো। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন নগরী জাজিয়ানটেপ আজ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছে প্রাণ শক্তি। একদিন যে নগরীতে স্পন্দন তুলেছিলো মানুষ, সেই নগরী এখনো আগলে আছে মানুষের কোলাহলকে। তুরস্কের দÿিণ পূর্বাঞ্চলের সবেচেয়ে বড় শহর এই জাজিয়ানটেপ। আরো মজার ব্যাপার হলো মেসোপটেমিয়া সভ্যতাকেও ধারণ করেছিলো এখানকার অধিবাসীরা। ঐতিহাসিক মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দÿিণ পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এনাটোলিয়া পর্যটন এলাকা। সভ্যতম এনাটোলিয়ার পশ্চিমেই জাজিয়ানটেপের অবস্থান। অতীতকে জানার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত মানুষ ছুটে আসছে এনাটোলিয়াতে। ভাবের জগতে ভর করে ভ্রমণে বেরিয়ে পরছে মেসোপটেমিয়ায়। আর তাদের ভাবনার উপকরণ হিসাবে কাজ করছে অসংখ্য প্রাচীনতম নিদর্শন। এগুলোর অনেক কিছুকেই প্রদর্শনের জন্য সংরÿনে রেখেছে জাজিয়ানটেপ জাদুঘর। শহরের বুকে মজবুত ভীত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন স্বাÿীগুলো পর্যটকদের কানে কানে বলে যাচ্ছে সময়ের কাহিনী। কেবল তাই নয় এর আয়তন, ছিমছাম আধুনিকতা, নান্দনিক বিন্যাস এবং জৌলুস যে কাউকে টেনে নিতে বাধ্য অতিত মেসোপটেমিয়ায়। আয়তনের দিক থেকে সমগ্র তুরস্কে এর অবস্থান ষষ্ঠতম। প্রাচীন এ শহরকে কেন্দ্র করে বর্তমান তুরস্কে জাজিয়ানটেপ নামে রয়েছে একটি প্রদেশ। প্রশাসনিকভাবে প্রদেশ জাজিয়ানটেপ পরিচালিত হয় দুটি কেন্দ্রীয় জেলার অধীনে। এর একটি সাহিনবে এবং অপরটি সেহিতকামিল। দÿিণ দিক থেকে জাজিয়ানটেপের সীমা সিরিয়ার সাথে। তবে সেদিকের এক অংশে রয়েছে কিলিস। উত্তরে আদিয়ামান, পূর্বে সানলিউরফা, দÿিণ পশ্চিমে হাটায়, পশ্চিমে ভ’মধ্য সাগর ও জাজিয়ানটেপের মাঝখানে ওসমানিয়া এবং উত্তর পশ্চিমে কাহরামানমারাসের অবস্থান।
ভৌগলিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাজিয়ানটেপ প্রাচীন কাল থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ ও উদার শহর হিসাবে পরিচিত। আকর্ষণীয় নির্মাণশৈলী ও সভ্য মানুষের পদচারনায় ২১৩৮ বর্গ কিলোমিটার ব্যাপী বিস্তৃত এ শহরটি পরিণত হয়েছে জীবন্ত এক আধুনিক শহরে। ১৯১১ সালের এনসাইকোপিডিয়া ব্রিটেনিকার তথ্য অনুযায়ী ১৯ শতকের শেষের দিকে এর জনসংখ্যা ছিলো ৪৫,০০০ এর মতো। এর দুই তৃতীয়াংশ ছিলো মুসলমান। আর সর্বশেষ ২০০৭ সালের শুমারি অনুযায়ী মেট্রোপলিটন এরিয়ার লোকসংখ্যা ১,২৩৭,৮৭৪। এদের মাঝে সিরিয়ান ইহুদীদের সংখ্যাও উলেøখযোগ্য পরিমাণ। নানা সময় সিরিয়ান ইহুদীদের এনটেবি বংশীয়রা বি¯Íার লাভ করে। আর সেখানকার খ্্িরস্টানদের অধিকাংশই হলো আরমেনিয়ান।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসকের অধীনে থাকার কারণে জাজিয়ানটেপ গড়ে উঠেছে ভিন্ন এক মাত্রায়। এখানে রয়েছে নানান মানব গোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতির ছুঁয়া। আর তাই সংস্কৃতি ভেদে এর নাম নিয়েও রয়েছে ভিন্নতা। জাজিয়ানটেপ নগরী প্রাচীন গ্রীক এবং রোমানদের কাছে দোলিখ নামে পরিচিত। যাকে তুর্কিরা দুলুক বলে থাকে। কুর্দিদের ভাষায় এটি দিলোক, আরাবীয়দের ভাষায় সেলজুকস এবং অটোমানদের কাছে এইনটেব নামে পরিচিত।
প্রাচীনতম এ নগরীর বয়স এবং ইতিহাস সন্ধানে মানুষের চেষ্টার শেষ নেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইতিহাসের লেজ ধরে ধরে অন্ধকারে এগিয়ে চললেও নগরীর শুরুর সময়কালে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এর কোন ইতিহাস পাওয়া না গেলেও অনুমান করা হয় তাউরুস পাহাড়ের উপর প্রতিষ্ঠিত অ্যান্টিওছিয়া আত তাউরুস নামক শহরের একটি অংশ ছিলো এটি। ইতিহাসের পথ ধরে যতদূর আগানো যায়, সে সময়টা ছিলো খ্রিস্টপূর্ব ১৮ শতকে প্রাচীন এনাটোলিয়ান সভ্যতার হিটিটিস সময়কাল। কারণ বর্তমানে এখানে সময়ের স্বাÿী হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন কেলøা ও স্থাপত্যগুলোর সাথে হিটিটিসদের বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে অসংখ্যবারই হাত বদল হয়েছে এর প্রশাসনিক ÿমতা। প্রথম নাগরিক সভ্যতার ধারক হওয়ার কারণেই নানা যুদ্ধ বিগ্রহ ও উত্থান পতনের স্বাÿী হয়ে আছে এই জাজিয়ানটেপ। সাত শতকের প্রথম দিকে আরবীয়রা এই অঞ্চলে আধিপত্য বি¯Íার করে। আরবীয় শাসনের সময় বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চল পূর্ব রুমানদের অধীনেও যায়। আব্বাসীয় শাসনের অবসানের পর জাজিয়ানটেপ টুলুনিভস, ইখসিডিডস এবং হামদানীডসদের শাসনের অধীনেও যায়। ৯৬২ খৃস্টাব্দে পূর্ব রুমানীয় অর্থাৎ বিজানটিন্সরা এ অঞ্চল দখল করে নেয় এবং ১০৬৭ খ্রীস্টাব্দে সেলজুকদের বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। তারা তুরস্কে সেলজুক সালতানাত প্রতিষ্ঠা করে। ১০৮৬ সালে এনাটোলিয়ান সেলজুকদের কাছ থেকে এর শাসন চলে যায় সিরিয়ান সেলজুকদের কাছে। প্রথম ক্রুসেড শুরু হলে ১০৯৮ সালে এটি ক্রুসেডারদের দখলে চলে যায়। এটি ১২৫০ সালে সেলজুক সালতানাতের পুন:প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত টিকে থাকে। সিলিসিয়ার আরমেনীয় রাজ্যের দ্বারা জাজিয়ানটেপ অধিকৃত ছিল ১১৫৫ থেক ১১৫৭ সাল পর্যন্ত এবং ১২০৪ থেকে ১২০৬ সাল পর্যন্ত। ১১৭২ সালে এ অঞ্চল অধিকার করে নূরউদ্দীন জঙ্গি। পরবর্তীতে ১১৮১ সালে তা ইতিহাসের প্রখ্যাত বীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর শাসনের অধীনেও ছিলো। ১২১৮ সালে রোমের সেলজুক সালতানাত পুন: অধিগ্রহণ করে জাজিয়ানটেপকে। জাজিয়ানটেপ মঙ্গোলীয়দের শাসনাধীন ছিলো ১২৬০-১২৬১, ১২৭১-১২৭২, ১২৮০-১২৮১ এবং ১২৯৯-১৩১৭ সাল পর্যন্ত। ইসলাম ধর্মে দীÿিত হওয়া ¯øাভদের অধীনে ছিলো ১২৬১-১২৭১, ১২৭২-১২৮০, ১২৮১-১২৯৯, ১৭১৭-১৩৪১, ১৩৫০-১৩৭৮, ১৩৮১-১৩৮৯ এবং ১৩৯৫-১৫১৬ সাল পর্যন্ত। ১৫১৬ সালে মার্জদাবিক এর যুদ্ধের পর অটোমানরা এ এলাকা অধিগ্রহণ করে।
সময়ের স্বাÿী জাজিয়ানটেপ মূলত দীর্ঘ বয়সের মহিমায়ই পরিচিত পুরো পৃথিবীতে। সেই সাথে আপন সৌন্দর্য এবং অর্থনৈতিক কারণেও রয়েছে এর খ্যাতি। তামার তার এবং ইয়ামেনী ¯িøপারের জন্য এ অঞ্চল প্রসিদ্ধ। তুরস্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্প এলাকাকে দÿিণপূর্ব এবং পূর্ব তুরস্কের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে ধরা হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এ শহরটি সেজে উঠলেও আপন ঐশ্বর্যকে কখনো জলাঞ্জলি দেয়নি জাজিয়ানটেপ। ইতিহাসের অলিগলি দাবড়িয়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে পৃথিবী থেকে পর্যটকরা এসে ভীর করে প্রতিনিয়ত। তাই বেশ কিছু উন্নত পর্যটন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সেখানে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তুরস্কের অর্থনীতিতে রাখছে বড় একটি ভ’মিকা। জাজিয়ানটেপ থেকে উৎপাদিত পণ্যের মাঝে স্ট্রাইপড সিল্ক, কটন ফেব্রিক, চামড়া জাত পণ্য, জলপাই তেল, আঙ্গুর থেকে তৈরি মিষ্টি, তামাক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এখানকার উৎপাদিত পে¯Íাবাদাম পৃথিবীব্যাপি খ্যাত বলে জাজিয়ানটেপ তুরস্কে পে¯Íাবাদামের শহর হিসাবে পরিচিত।
জাজিয়ানটেপ থেকে উৎপাদিত গালিচার বেশ কদর রয়েছে বিশ্বে। গালিচা তৈরি এখানকার অনেকের ঐতিহ্যবাহী পেশা। প্রাচীন জাজিয়ানটেপের নারীরা পশম দিয়ে গালিচা বুনন করতো। তারা এ গালিচাকে নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়ে তুলতো। গালিচাকে তারা দেখতো কবিতার চিত্ররূপ হিসাবে। এর নকশাগুলোর মাঝে প্রস্তুতকারীরা ফুটিয়ে তুলে মানুষের রহস্যময় আচরণ। কখনো কখনো এসব গালিচায় থাকে ময়ূর, ঘাস খাচ্ছে এমন হরিণ, উঁচু সাইপ্রেস গাছ, অলঙকৃত ফুলদানি, জলাধার, সন্তরণরত হাঁস, রূপালি মাছ এবং লতাপাতা ও ফুলের ছবি। গালিচা কেবল সৌন্দর্যকেই ফুটিয়ে তুলেনা বরং এর নকশা ও প্রতিটি বুননের ভেতরে লুকিয়ে থাকে ভিন্ন এক রহস্য। যে কারণে যুদ্ধবিগ্রহের সময় একপÿ অপরপÿের অনেক কিছু তছনছ করে দিলেও গালিচাগুলোকে অÿত রাখতো। এসব গালিচার মূল্য হামলাকারীদের কাছেও ছিল অনেক। গালিচায় কখনো মৃত্যু, ধ্বংস, বিশৃঙ্খলা ফুটিয়ে তোলা হয়না। সৌন্দর্যকে বিকশিত করার এ মাধ্যমে অশুভকে দূরে রাখা হয়। নিষ্ঠুরতা, যাতনা ও বিষাদ একান্তই যদি তুলে ধরতে হতো তবে এসবের সাড়া দেয়া হতো সৌন্দর্যকে তুলে ধরার মাধ্যমে। প্রাচীন সব গালিচা প্রস্তুকারীই জানতো যে, সৌন্দর্যই হচ্ছে সব যাতনার নিরাময়। সৌন্দর্যপ্রিয় ও সৌখিন লোকেরা ছিলো এসব গালিচার ক্রেতা। ÿমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের প্রাসাদে শুভা পেত অসাধারণ এসব শিল্পকর্ম। সময়ের সাথে সাথে সব কিছু পাল্টালেও মানুষের সৌন্দর্যপ্রিয়তা একেবারেই পাল্টায়না। জাজিয়ানটেপের অধিবাসিদের সেই সৌন্দর্যপ্রিয়তা বংশপরম্পরায় এখনো রয়েগেছে অটুট। সে কারণেই আজো টিকে আছে সেখানকার গালিচা শিল্প। কেবল টিকে থাকা নয় বরং সমগ্র বিশ্বকে আহŸান করছে সৌন্দর্যের দিকে। গালিচা হলো সৌন্দর্য, অভিনন্দন, সানন্দে গ্রহণ ও উৎসবের প্রতীক। এখনো এ প্রতীকের সাথে থেকে জাজিয়ানটেপ মেতে উঠে আগের মতো উৎসবে।

http://blog.bibleplaces.com/uploaded_images/West_Jerusalem_aerial_from_north,_tb010703236-786405.jpg
জেরুজালেম
মানচিত্রের উত্তরে চিলতের মতো হয়ে এসে যেখানটায় শেষ হয়েছে মৃত সাগর, এর ৩৫ কিলোমিটার অদূরেই পবিত্রতম এক পাহাড়ি উপত্যকা জেরুজালেম। মুসলমান, খ্রিস্টান এবং ইহুদী ধর্মের জন্য পবিত্র এ উপত্যকাটি সভ্যতার ছুঁয়ায় গড়ে উঠেছে জুদিয়ান পাহাড়ের পাদদেশে। কেবল ধর্মীয় কারণে নয় ভৌগলিকভাবেও জেরুজালেমের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক অবস্থান। প্রকৃতির অঢেল নিঃসর্গ যেন ঢেলে দেয়া হয়েছে এখানে। উপত্যকার পূর্ব দিকে যেমন পৃথিবীর রাহস্যঘেরা এক আশ্চর্য মৃত সাগর, তেমনি মাত্র ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে এসে আছড়ে পরছে ভ’মধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা। এরই মাঝে মানুষের বসতি। ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে শহর হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো জেরুজালেম। আর একেই পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর হিসাবে ধরা হয়। মানুষের বসতির প্রথম দিকে জুদিয়ান পাহাড়ের শ্যামল এ উপত্যকাটি কেমন ছিলো তা ধারণা করা না গেলেও অন্তত বাইবেলিয় সময়ের কথা বলা যায়। তখন বসতির ভেতর সবুজ নয়, বরং ছিলো সবুজের ভেতর বসতি। কোথাও দেখা যেতো কাঠবাদাম, কোথাও জলপাই আবার কোথাওবা পাইন বন। কিন্তু মানুষের শুধু শুধু প্রকৃতিকে ধ্বংস করার প্রবণতার ফলে আগের সেই সবুজ এখন আর টিকে নেই। তবে পৃথিবীর অন্যান্য অনেক নগরীর সাথে তুলনা করলে এর পরিমাণ অবশ্যই বেশি। এখনো এ শহরের পূর্ব দিক ঘিরে রেখেছে নির্মল জলপাই বন। ছোট বড় অসংখ্য উপত্যকার সমন্বয়ে ভ’খন্ডটির রয়েছে ভিন্ন এক আবহ, রয়েছে অসম্ভব নান্দনিকতা। পুরাতন শহরের দÿিণ অংশ ছাড়িয়ে রয়েছে কিডরুন উপত্যকা। তারপর আবার উঁচু হয়ে উঠেছে জলপাই পাহাড়। একই দিকে গভীর ও ঢালু উপত্যকা হিন্নুন। খ্রীস্টানদের ধারণা এ হিন্নুন থেকেই শুরু হবে পাপিদের পরলৌকিক শা¯িÍ। উত্তর পশ্চিম দিকে দামেস্ক গেটের কাছাকাছি আরেক উপত্যকা তাইরুপিয়ানের অবস্থান।
জেরুজালেম জুড়ে বছরের বারো মাসই থাকে নির্মল প্রকৃতির কোমল ছুঁয়া। এখানকার বাসিন্দারা অভ্য¯Í ভ’মধ্যসাগরীয় আবহাওয়ায়। তারা যেমনভাবে অভিবাদন জানায় গ্রীষ্মকে তেমনি শীতও এদের বরণীয়। এ উপত্যকায় গ্রীষ্ম আসে আলো ও আঁধারের উষ্ণতার ব্যবধান নিয়ে। আকাশে সূর্যের উপস্থিতিতে প্রচন্ড তাপে তাঁতিয়ে উঠে এরা। আবার সূর্য তলিয়ে গেলে ঠান্ডায় কেঁপে ওঠে এরাই। কখনো কখনো ঝর ঝর করে উপত্যকাকে ভিজিয়ে দিয়ে যায় বৃষ্টি। আবার এখানে মৃদু তুষার ঝরিয়ে আগমন ঘটে শীত মৌসুমের। পবিত্রতম এ উপত্যকায় প্রকৃতির সবই ঘটে স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু যত অস্বাভাবিকতা কেবল এখানকার বাসিন্দাদের মাঝেই। কোথাও কোন অসঙ্গতি না থাকলে হয়তো ইতিহাসের প্রাচীন এ নগরী নিভৃতেই চলতো সময়ের পথ ধরে। পাহাড় গলে প্রবেশ করা সাগরের নির্মল বাতাস আবার নির্মলতা নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারতো জেরুজালেম থেকে। কিন্তু এখানকার প্রতিদিনের বাতাসে এখন নেই এতটুকু শান্তির লেশ, নেই কোন উদারতা। এখন ইজরাইলের করায়ত্তে থাকা জেরুজালেমের আকাশ বিদির্ণ করে ফাটে কামানের গোলা, বাতাসে বারুদের গন্ধ আর ভ’মিতে ভারি অস্ত্রের ঝনঝনানি। পাহাড় সাগরের মিতালিতে অবস্থান করলেও এখানকার বাসিন্দারা বিভক্ত। অনেকের চোখে ঘুম নেই, থালায় খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাই নেই, জীবণের অধিকার নেই, নিজের স্বাধীনতা নেই। এ যেন পরিণত হয়েছে এক নেই উপত্যকায়।
এ উপত্যকা থেকে যারা নেই করেছে শান্তিপ্রিয় মানুষের ঘুম, তাদেরই বিষাক্ত নখর প্রতিনিয়ত দাগ কাটছে মানবতার বুকে। এখানকার দখলদারী ইহুদীদের বুনন করা জালে এখন বন্দি পুরো পৃথিবী। এ নগরীর অভ্যন্তরেই অবস্থান মুসলমানদের একসময়কার কেবলা মসজিদুল আকসার। অথচ আজ পবিত্রতম সেই স্থানে প্রার্থনার জন্য মুসলমানদের হাজারো বাঁধা। নিজের ভ’মিতে তাদের বসতি যেন কারাগারের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে। ইজরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর তলøাশি ও নিষ্ঠুরতার আতঙ্ক তাদের তাড়া করে প্রতি মুহুর্তে। কিন্তু তবুও দখলদারিত্বের জীবণে নিজেদের পরিচিতি টিকিয়ে রাখার জন্য আল আকসা অভিমুখে ভেসে আসছে মানুষের স্রোত৷ পুরুষ, মহিলা, শিশু এরা সবাই মূলত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনী মুসলমান৷ পশ্চিম তীরের অন্য যে কোন শহরের বা গাযার ফিলিস্তিনীদের জন্য পুরাতন জেরুজালেমের দরজা বন্ধ৷ আর পূর্ব যেরুজালেম থেকে ছুটে আসা মানুষের স্বাধীনতায় খড়গ বসাতে মসজিদের চারদিকে এবং প্রবেশ পথে থাকে ইজরাইলি সৈন্য ও পুলিশের কঠিন টহল৷ সন্দেহ হলেই দেখছে পরিচয়পত্র। অযথাই লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা, নির্যাতন, হত্যা, গুম প্রতিদিনের জন্য খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁচলে থাকা এ উপত্যকার মানবিয় বহি:প্রকাশ বড়ই কুৎসিত। অথচ এটি অন্যরকম এক বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্তে¡ও এখানে খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন এক আবহ। পৃথিবীর প্রাচীনতম এ নগরী তিনটি অংশে বিভক্ত। এক অংশ দ্রæত উন্নয়নশীল বাণিজ্যিক এলাকা পশ্চিম জেরুজালেম। অধিকাংশ আরবীয়দের বসবাস যেখানে সে অংশটি পূর্ব জেরুজালেম এবং যে অংশের কারণে ইতিহাসের পাতায় প্রাচীন নগরী হিসাবে স্থান পেয়েছে এ উপত্যকাটি সেটি হলো শহরের মূল ও পূরাতন অংশ। ইউনেস্কো পুরাতন জেরুজালেমকে ঘোষণা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট হিসাবে। জেরুজালেমের অর্থনীতির বড় একটি অংশ নির্ভর করে শহরের পুরাতন অংশের উপর। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ছুটে আসে ইতিহাসের অনঢ় স্বাÿী এ অংশ এবং পশ্চিম দিকে নির্মিত দেয়ালের আকর্ষণে। এখানে এসে তারা ডুবে যেতে চায় অতীতে। কারণ এ নগরী গড়ে উঠেছে অসংখ্য শৈল্পিক সংস্কৃতির সংমিশ্রণে। কেবল তাই নয, পবিত্রতম জেরুজালেমে এখনো টিকে রয়েছে প্রাচীন অনেক প্রার্থনাগার। পুরো শহরে সিনাগগের সংখ্যা ১২০৪টি, চার্চ ১৫৮ টি এবং মসজিদ রয়েছে ৭৩টি। এগুলোই শহরের ৭৪৭,৬০০ জন বাসিন্দার প্রার্থনালয়। ২০০৭ সালের এ শুমারি অনুযায়ী এদের মাঝে ৬৪ শতাংশ ইহুদী, ৩২ শতাংশ মুসলিম এবং ২ শতাংশ ক্রিস্টান। ১২৫.১৫৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে ২০০৫ সালের শেষের দিকে বসতির ঘনত্ব ছিলো প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫,৭৫০.৪ জন। ইজরাইল ও ফিলি¯িÍন উভয় রাষ্ট্রই এ শহরকে রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করলেও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একে কোন দেশের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়না। অধিকাংশ রাষ্ট্র তেলআবিবকে ইসরাইলের এবং গাজাকে ফিলি¯িÍনের রাজধানী হিসাবে গণ্য করে।
একেশ্বরবাদী তিনটি ধর্মের জন্য জুদিয়ান পাহাড়ের উপত্যকায় গড়ে উঠা এ শহরটি পবিত্র হওয়ার কারণে একে বলা হয় পবিত্রতম শহর । আর জেরুজালেম শব্দের অর্থও হলো পবিত্র। প্রাচীন মিশরীয় রেকর্ডে জেরুজালেমের যে নাম পাওয়া যায় তা হলো ‘রুসালিমুন’ অথবা ‘উরসালিমুন’। গ্রীকরা এর পূর্বে ‘হাইক’ সংযোজন করে ‘হাইক্রোসালিমুন’ বলে ডাকে। । আরবদের কাছে এটি আল-কুদস বলে পরিচিত। এর সবগুলোর অর্থই হলো পবিত্র। হিব্রæ পান্ডুলিপি অনুযায়ী জেরুজালেম ৯৭০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত ছিলো হযরত দাউদ (আ.) এর শাসনের অধীন। তাঁর সময় এ শহরটি গড়ে উঠেছিলো বলে একে দাউদ এর শহরও বলা হয়। পরবর্তীতে এ অঞ্চলের শাসক হন তাঁর পুত্র হজরত সোলায়মান (আ.)। তিনিই এ নগরীতে আল আকসা মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ইতিহাসের ধারা বেয়ে গড়ে উঠেছে আজকের সভ্য নগরী জেরুজালেম।
পর্যায়ক্রমে এ উপত্যকায় ইহুদী, খৃষ্টান এবং মুসলমানরা জনবসতি গড়ে তোলে। জেরুজালেমকে রাজধানী করে গড়ে তোলা ইহুদীদের জুদাহ রাষ্ট্র একসময় বিধ্ব¯Í হয়েছিলো ব্যবলনীয় রাজা নেবুচাঁদনেজারের হাতে। পরবর্তীতে রোমানদের আক্রমনে আবারও ইহুদীরা বিতাড়িত হয় জেরুজালেম থেকে। সপ্তম শতাব্দীতে এলাকা মুসলমানদের আয়ত্তে¡ আসে এবং অটোম্যান সাম্রাজোর শেষ পর্যন্ত তা অুন্ন থাকে। তখন এখানে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। আজ যে ইহুদীরা মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করার জন্য উত্তপ্ত করে রেখেছে জেরুজালেম ও ফিলি¯িÍনকে। সে ইহুদীরা মুসলিম শাসনের অধীনে সবসময়ই থেকেছে নিরাপদ। হজরত ওমর রা. এর খেলাফতের সময় দীর্ঘ ৫০০ বছর পর জেরুজালেমে বসতি গড়ার অনুমতি পায় তারা। কোথাও যখন ঠাঁই মিলছিলোনা তখন ইসলামের ২য় খলিফা আশ্রয় দিয়েছিলেন তাদের। এই জেরুজালেম স্বাÿী হয়ে আছে মুসলিম শাসকদের উদারতা ও স¤প্রীতির। ওমরের সময় মুসলিম সৈন্যরা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো জুদিয়ান পাহাড়ের এ উপত্যকা। কিন্তু খ্রীষ্টানদের দাবি ছিরো তারা খলিফা উমরের কাছে উত্মসমর্পণ করবেন। ইসলামের ২য় খলিফা হযরত ওমর (রা.)ও তাদের সাথে চুক্তি সম্পাদনের জন্য আরব থেকে রওয়ানা দেন সুদূর জেরুজালেমের উদ্দ্যেশে । তিনি সেখানে পৌঁছার পর সারা জেরুজালেম অবাক হয় দেখল বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকর্তা ওমর (রা.) গাধার দড়ি হাতে বিনয়ের সাথে হেটে শহরে প্রবেশ করছেন। আর গাধার পিঠে সওয়ার তারই ভৃত্য। কেবল তাই নয় ধর্মীয় স¤প্রীতি রÿার জন্য এ জেরুজালেমেই তিনি নজির রেখে গেছেন আরেক উদারতার। হযরত ওমর (রা.) জেরুজালেমের একটি বিখ্যাত চার্চ পরিদর্শনে ছিলেন। সেখানে নামাজের সময় হয়ে গেলে তিনি অন্য স্থানে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। কারণ তাঁর শংকা ছিলো চার্চের ঐ স্থানে নামাজ আদায় করলে, তার স্বরণে পরবর্তীতে একে মসজিদে রূপান্তর করা হতে পারে। এ কারণেই এ চার্চের আশপাশে মুসলমানরা একত্রিত হয়ে যেন নামাজ আদায় করতে না পারে সেজন্য একটি ডিক্রিও জারি করেন।
মুসলমানরা ইহুদীদেরকে আশ্রয় দিলেও বিভিন্ন সময় তাদের মার খেতে হয়েছে অন্যদের হাতে। রোমানদের আক্রমণে বিধ্ব¯Í হবার পর ইহুদীরা ইউরোপের বিভিন্ন ভূখন্ডে ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাসিত জীবন যাপন শুরু করে। তখন তারা কোন দেশেই মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে একীভূত হতে পারেনি। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে ইহুদীরা সবেেত্রই ভূমিকা রাখলেও এদের জীবন পরিচালিত হতো মূলধারার বাহিরে। পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তারা বস্তিতে এবং শহরের উপকন্ঠে বাস করত। এই নির্বাসিত জীবন থেকে মুক্তির জন্য ইহুদীরা জায়নবাদী আন্দোলন গড়ে তুলে। জুদিয়ান পাহাড়ের আরেক নাম হলো জায়ন। এ পাহাড়ের উপত্যকা জেরুজালেমে তারা আবার একত্রিত হবার জন্য তাদের সংগ্রাম ছিলো বলে এ আন্দোলনের নাম দিয়েছিলো জায়নবাদী আন্দোলন। এ পাহাড়ের পাদদেশে সারা বিশ্ব থেকে ইহুদীরা এসে নিজেদের আবেগকে প্রশমিত করতো। নির্বাসিত জীবনে বিভিন্ন ভূখন্ডে তারা লালন করতে থাকে এ আন্দোলনকে। উনবিংশ শতাব্দিতে কিছুসংখ্যক ইহুদী ফিলি¯িÍনে ফিরে এসে জেরুজালেম, সাফেদ এবং ত্রিবেরীতে বসবাস শুরু করে। ধীরে ধীরে তাদের জায়নবাদী আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে এবং প্রতাপশালী বিভিন্ন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তাদের প্রভাব বাড়তে থাকে। এ কারণে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে একটি সনদে বলায় হয় ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করা হবে একটি হবে আরবের আর একটি ইহুদিদের। এ সনদে বলা হয় জেরুজালেম স্বাসিত হবে সরাসরি জাতিসংঘের দ্বারা। এর ফলে শুরু হয় আরব আর ইহুদিদের মধ্যে সংঘর্ষের। তখন ইহুদি এই অবৈধ অভিবাসিরা সংঘটিত হতে থাকে পশ্চিমাদের সাহায্য সহযোগিতায়। কিন্তু ১৯৫৭ সালে ইহুদি, ফরাসী আর ব্রিটিশ সমন্বিত শক্তির কাছে পরাজিত হয় আরবরা। অবশেষে ১৯৬৭সালের ৬দিনের যুদ্ধে আরবরা পুরোপুরি পরাজিত হয় জায়নিষ্ট শক্তির কাছে। এর আগে জেরুজালেম এর পূর্বাংশ ছিলো জর্দানের অধীনে। পরবর্তীতে ইহুদিরা আরো অনেক অঞ্চল নিজেদের অধিকারে নিয়ে নেয়। আর একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে অগ্নিগর্ভে পরিণত করে জেরুজালেমসহ পুরো ফিলি¯িÍনকে।

http://msnbcmedia4.msn.com/j/msnbc/Components/Photos/070331/070331_kirkuk_hmed_2p.hmedium.jpg
কিরকুক
আজ থেকে পাঁচ হাজার বছরেরও পূর্বে গড়ে উঠা শহর কিরকুক। এর অবস্থান বর্তমান ইরাকের উত্তরাঞ্চলে। রাজধানী বাগদাদ থেকে ব্যবধান ২৫০ কিমি। হ্যামরিন পাহাড়ের উত্তর দিকে প্রাচীন এ নগরবসতি ছুঁয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিনটি নদী। পশ্চিমে টাইগ্রীস ও জ্যাব এবং দÿিণ পূর্ব দিক দিয়ে কলকলিয়ে বয়ে গেছে সিরওয়ান। এ প্রবাহগুলো কখনো অপেÿা করেনি কারো জন্য, যেমনভাবে অপেÿা করেনি সময়। যে পথের শেষ নেই সে পথ ধরেই সময়ের অফুরন্ত অভিযাত্রা। খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার সালে সেই যে সময়ের সাথে যোগ হয়েছিলো এই সভ্য নগরী, আজ অবধি সাথেই আছে। তবে এই ব্যবধানটুকুতে বয়ে গেছে পরিবর্তনের ঝড়, বদলে গেছে ভ’খন্ডের অনেককিছু। সভ্যতাকে ধারণ করে প্রবাহ ÿীণ হয়ে এসেছে টাইগ্রীস, জ্যাব এবং সিরওয়ানের। এখানকার নাগরিকদেরকে যেমনভাবে দোলা দিয়েছে ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়, তেমনি কষাঘাতে পিষ্ট করেছে অন্ধকারের কালো। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির চক্রে কিরকুকের বাসিন্দারা বর্তমানে সোনালী কোন অধ্যায়ের স্বাÿী নয়, বরং পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে তারা ডুবে আছে কালো এক গহŸরে। এখানে গণতন্ত্র বিতরণ করার ছুঁতো ধরে দূর ভ’খন্ড থেকে উরে এসে স্বাধীনতা কেড়ে নেয় দখলদারিরা। কেবল তাই নয় প্রাচীন এ নগরীর সন্তানদের মাঝে জ্বেলে দেয় অভ্যন্তরিণ বিভেদের আগুন। সে আগুনে এখন প্রতিদিন জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে কিরকুক। এখানে শিশুদের ঘুম ভাঙ্গে গগণবিদারী বোমার শব্দে। বাতাসে ভাসে বারুদের গন্ধ। বিধ্বংসী তান্ডবে অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে মাটিতে মিশে যেতে হচ্ছে হাজার হাজার বছরের পুরনো নিদর্শনগুলোকে।
পৃথিবীর প্রাচীন এ নগরবসতির প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে সভ্যতার অতিত। প্রাচীন বাসিন্দাদের আবেগ আর অনুভ’তির নিঃশ্বাসগুলো এখনো ভেসে বেড়ায় কিরকুকের বাতাসে। প্রাচীন এ নগরীর সুখ-দুখ এবং সংস্কৃতির মাঝে ডুবে থাকার ফুসরত নেই এখানকার বাসিন্দাদের। জীবণের অনিশ্চয়তায় তাঁরা ব্য¯Í জীবণের সন্ধানে। এখন তাদের কাছে মূল্যহীন মানবসভ্যতার হাজারো নিদর্শন। একসময়কার শহর রÿাকারী প্রাচীন দূর্গটি এখন আর তাদের টানতে পারেনা। অথচ একে পরিদর্শন করতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে পর্যটক। বর্তমানে বিপজ্জনক কিরকুকের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এ দূর্গটির আকর্ষণ পর্যটকদের টানলেও অবশ্য হ্রাস পেয়েছে তাদের আগমন। এটি নির্মিত হয়েছিলো খ্রিস্টপূর্ব ৮৮৪ এবং ৮৮৪ সালে। সেনা প্রতিরÿার জন্য রাজা ২য় আসরনাসির পাল এটি নির্মাণ করেছিলেন ১৩০ ফুট উঁচু করে। কিরকুকের অভ্যন্তরে রয়েছে এতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিশলা। ৬ একর ভ’মিতে নির্মিত এ স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিলো শীতের সময় সৈন্যদের অবস্থানের জন্য। এ শহরের আরেক অ™ভ’ত ও আকর্ষণীয় স্থাপনা কায়সারিয়া মার্কেট। আল কায়সারিয়াহ প্রতিরÿা দুর্গের কাছেই অবস্থিত। অটোমান শাসনের সময় নির্মাণ করা হয়েছিলো আশ্চর্য এ স্থাপনা। এখানে রয়েছে ঘন্টা, দিন, মাস এবং বছরের প্রতীক। পুরো মার্কেটটিতে ৩৬৫টি তলা রয়েছে, যা বছরের সবগুলো দিনের প্রতীক বহন করে। ২য় তলায় ১২টি ছোট কÿ রয়েছে যেগুলো বছরের বারমাসের প্রতীক। মার্কেটে ২৪টি গলিপথ রয়েছে যেগুলো দিনের চব্বিশঘন্টার প্রতীক। আর সপ্তাহের ৭ দিনের প্রতীক বহন করছে এর সাতটি দরজা।
ঐতিহাসিক অসংখ্য স্থাপনা বুকে ধারণ করা এ নগরীটি মূলত প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো মেসোপটেমিযার উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারি উপজাতি হুরিয়ানদের সময়কালে। ককেশাস নৃগোষ্ঠীর হুরিয়ানদের রাজত্বকালে ভ’খন্ডটি পরিচিত ছিলো আরাপফা নামে। শব্দটির অর্থ হলো শহর। আসেরিয়দের পতনের পর কিরকুক পরিচিত ছিলো কুরকুরা নামে। গ্রীকদের অধীনে থাকার সময় এটি কারখা ডি-বেট ¯øখ নামে পরিচয় লাভ করেছিলো। ৭ম শতাব্দীতে এ এলাকা মুসলমানরা অধিকার করে। তখন আরব লেখকেরা একে কিরখেনি বলে উলেøখ করতো। কিরখেনি শব্দের অর্থ হলো নগররÿাকারী দূর্গ।
প্রাচীন আসেরিয়ান শহর অরপফা থেকে কিরকুকের সৃস্টি। কিরকুকের আদি অবস্থা অরফকা আসেরিয়ান শাসকরেদর অধীনে থাকলেও, এর রাজধানী ছিলো মিত্বানিয়ানদের অধীনে। ১৫০০ থেকে ১৩৬০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত আসেরীয় সকল শাসকরাই মিত্বানীয়দের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে। কিন্তু আবার খ্রিস্টপূর্ব ১৪ শতকে মিত্বানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে দেয় আসেরিয়রা। এতেই পতন ঘটে তাদের। কিরকুকে সভ্যতার এক বিপ্লব ঘটে যায় মূলত তখনই। খ্রিস্টপূর্ব ১০ম এবং ১১তম শতাব্দীতে আসিয়ান শাসনের অধীনে বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ সুবিধার সমন্বয়ে সতেজ হয়ে উঠতে থাকে কিরকুক। আবার খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ট শতকে আসেরিয়া মেডেস ইউনিয়নের দখলে চলে যায়। ৭ম শতকে এ শহরটি আসে মুসলমানদের দখলে।
এ এলাকায় পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থান থেকে বসতির জন্য ছুটে আসে মানুষ। এদের মাঝে উলেøখযোগ্য অভিবাসন হয় আরব এবং তুরস্ক থেকে। মুসলমানদের শাসনের সময় আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন এখানে এসে বসবাস শুরু করে। ১৬ শতকের দিকে সাফাভিন শাসনের সময় তুর্কিদের আগমন ঘটে। শাহ প্রথম ইসমাইল শিয়া বিশ্বাসীদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সেখানে অবস্থানরত সুন্নীদের স্থানে প্রতিস্থাপন করতে থাকে শিয়াদেরকে। মূলত তখন থেকেই এ অঞ্চলে মুসলমানদের মাঝে গড়ে উঠে অভ্যন্তরিন বিভেদ। সময়ের বিবর্তনে জাতীয়তাবোধের উপর ভিত্তি করে মুসলমানরা ভাগ হয়ে যায় কুর্দী, তুর্কী, আরব প্রভৃতি দল ও উপদলে। তার পর থেকে এ বিভেদ কিরকুকসহ গোটা ইরাককে প্রতিনিয়ত পরিণত করে তুলছে অগ্নিগর্ভে। অটোমান বিশ্বকোষ প্রণেতা শামসুদ্দিন শামীর বর্ণনা অনুযায়ী ১৮৯৭ সালে কিরকুকের মোট বাসিন্দার তিন চতুর্থাংশ ছিলো কুর্দি, তুর্কী এবং আরব। ইহুদী ছিলো সাত হাজার ষাট জন এবং খ্রিস্টানের সংখ্যা ছিলো ৪৬০ জন। ১৯৫৭ সালের এক হিসাবে কিরকুকে বসবাসকারি কুর্দির সংখ্যা ছিল ১৭৮,০০০, তুর্কী ৪৮০০০, আরব ৪৩,০০ এবং খ্রিস্টানের বসবাস ১০,০০০। বর্তমানে পুরো শহরে ৮৫০৭৮৭ জনের বসতি।
কেবল ঐতিহাসিকভাবেই নয় কিরকুকের উপর নির্ভর করে ইরাকের অর্থনীতির বড় একটি অংশ। সমগ্র দেশের পেট্রোলিয়াম শিল্পের কেন্দ্র এই নগরী। এখানে রয়েছে ‘বাবা গুরগুর’ তেল ÿেত্র। দেশের সর্ববৃহৎ এ ÿেত্রটি আবিষ্কৃত হয় ১৯২৭ সালে। আর তেল উত্তোলন শুরু করে আরো সাত বছর পর ১৯৩৪ সাল থেকে। এক পেট্রোলিয়াম শিল্পের আশির্বাদেই সেখানকার বাসিন্দাদের জীবণ প্রকৃতি হওয়ার কথা মসৃণ ও স্বাচ্ছন্দময়। কিন্তু তা না হয়ে কাল হয়ে দাঁড়ালো এ শিল্পই। ইরাকের ভ’গর্ভ¯Í সম্পদ লুটেপুটে নেয়ার জন্য এখানে লুলুভ জিভ ডুবিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো। এতেই তারা শান্ত নয়, বরং নিষ্ঠুরভাবে মুছে দিতে চাচ্ছে এ নগরীর নিজস্বতাকে। নিজেদের মাঝে অসংখ্য বিভেদের দেয়ালের অ¯িÍত্ব থাকলেও সেখানকার একেশ্বরবাদি বাসিন্দারা অপেÿায় আছে পরিপূর্ণ এক স্বাধীনতার জন্য। সেইসাথে পৌত্তলিকতামুক্ত সন্তানদের অপেÿার প্রহর গুণে গুণে প্রতি রাতেই টাইগ্রীসের প্রবাহে অশ্রæ ঝরায় এ নগরী। এ কারণেই হয়তো একদিন কিরকুকে উদিত হতেও পারে স্বাভাবিক সূর্য।

শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০০৯

মৌসুমি বায়ু : এক গভীর রহস্য


শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

[লেখাটি মাসিক অন্য দিগন্তে তনয় হোসনেয়ারা (আমার ছদ্মনাম) নামে ছাপা হয়েছে]

নীল রঙ্গেরএক জলজ চাদর, যার অভ্যন্তরে তলিয়ে আছে তিনচতুর্থাংশ পৃথিবী। এরই ফোকল গলে এখানে সেখানে অ¯িÍত্ব প্রমাণ করছে স্থলভাগ। আবার এ স্থলভাগের অভ্যন্তরেও জাল বিছানো রয়েছে সন্তরণরত চাদরের। মোট কথা এ চাদর অর্থাৎ পানির অ¯িÍত্ব পৃথিবীর সবখানেই। জীবণের জন্য পানি। কারণ পানি যেমন ধরে রেখেছে অথই সাগরের অসংখ্য জীবণকে, তেমনি সজিব করে রেখেছে স্থলভাগকেও। কোথাও বৃস্টির পশলা ভিজিয়ে দিয়ে যায় ভ’মি, কোথাও পাহাড়ি ঢল নেমে প্লাবিত করে নদী, আবার কোন ভ’খন্ড সজিব রাখে পেঁজা তুলোর মতো ঝরা তুষার। যেখানে জীবণের অ¯িÍত্ব রয়েছে, সেখানেই রয়েছে পানিরও অ¯িÍত্ব। বাতাসের ভেতর থেকেও আমরা যেমন বাহ্যিকভাবে ততটা ধরতে পারিনা এর গুরুত্ব, তেমনি পানিময় পৃথিবীতে পানিকে অনুভব করতে পারিনা ততটা। পানির উৎসের অন্যতম একটি হলো বৃষ্টি। বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় মূলত আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে (জুন, জুলাই, আগস্ট)। আর এ বৃষ্টির উৎস হলো অজস্র পানির ফোঁটা নিয়ে ভেসে আসা মৌসুমি বায়ু। জলকণাপূর্ণ মেঘের এ তরঙ্গসীমা সাধারণত বাংলাদেশকে স্পর্শ করে জুনের প্রথম দিকে এবং ছেড়ে যায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।
পূর্ণ-মাপের চিত্র দেখুন
মৌসুমি বায়ু কি
মৗসুমি বায়ু হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে প্রবাহিত বায়ু। অবাক হতে হয় এই ভেবে যে, এখনো এর উৎপত্তি নিয়ে পরিস্কার কিছু বলতে পারেননি কোন বিজ্ঞানী ও গবেষক। সাগরের দিক থেকে এটি ভেসে আসে এতটুকুই কেবল স্পস্ট। কিন্তু সাগরের কোন স্থান থেকে এর প্রবাহ শুরু হয় তা এখনো রয়ে এক গভীর রহস্যের আড়ালে। তবে মৌসুমি বায়ুর অভিযাত্রায় কিভাবে পানি সংযোজিত হয় এর ব্যাখ্যা রয়েছে । সাধারণত যে এলাকায় যখন মৌসুমি বায়ুর প্রভাব লÿ করা যায়, তখন বাতাসের ব্যাপক গতি থাকে। মূলত বাতাসের প্রচন্ড গতিই এর সাথে পানি সংযোজিত করে। বাতাসের প্রচন্ড প্রবাহে উথাল-পাথাল ঢেউ তুলে আন্দোলিত হয় সাগরের নীল চাদর। আর এর সঞ্চালনের ফলে উপরিভাগে সৃষ্টি হয় প্রচুর ফেনার। এই ফেনা সৃস্টি করে অসংখ্য বুদবুদের। একসময় বুদবুদগুলো ফেঁটে হাজার হাজার ুদ্র জলকনা মিশে যায় বাতাসের সাথে। অবশ্য অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক সময় পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়েও ভেসে যায়। এ বাতাস যতই সমুদ্র উপক’লের দিকে আসতে থাকে ততই ধুলিকণার সাথে মিশতে থাকে পানির বিন্দুগুলো। পরবর্তীতে এ মিশ্রণ উঠে যায় বায়ু মন্ডলের উপরের দিকে। এর ফলে বাষ্প আরও ঘনীভ’ত হয়ে ধূলি মিশ্রিত কনার চারদিকে জড়ো হয় এবং পরবর্তীতে ফোঁটা ফোঁটা পানির সৃষ্টি করে। পানির এই ফোঁটাগুলো প্রথমে একত্রিত হয় এবং সৃষ্টি করে মেঘমালার। আর এই মেঘকে আপন প্রবাহে ভাসিয়ে বেড়ায় মৌসুমি বায়ু।
অনেক ভ’তত্ত¡বিদদের বিশ্বাস সর্বপ্রথম সৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হয়ে এসেছিলো ৮ মিলিয়ন বছর আগে। তারা আরব সাগরে বাতাসের প্রবাহ থেকে এবং চায়না নিম্ন মালভ’মি অঞ্চল থেকে বাতাসে বয়ে আসা বালুকণাকে পরীÿা করে এ অনুমান করেন। তাছারা তাদের পরীÿার আওতায় ছিল চীনের বৃÿ ফসিল এবং দÿিণ চীনা সাগরের তলানি। এসব পরীÿা থেকে এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন বছর আগেও ছিল মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ ।

প্রবাহ
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিবছর একই সময়ে মৌসুমি বায়ু ভাসিয়ে নিয়ে আসে মেঘ। সেই সাথে নিচের ¯Íরে প্রবাহিত বায়ুতে ভেসে বেড়ায় অসংখ্য জলকণা। যার অস্তিত্ব এ অঞ্চলে অনুভব করা যায় । দÿিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রভাব বেশি থাকার কারণেই হয়তো সর্বপ্রথম মৌসুমী বায়ু হিসাবে এটি পরিচিতি পায় ভারত, বাংলাদেশ, পাকি¯Íানসহ আশপাশের দেশগুলোতে। বিশ্বের অন্যান্য যেসব স্থানে এ বায়ু প্রবাহিত হয় সেগুলোর মাঝে উলেøখযোগ্য হলো উত্তর আমেরিকা, দÿিণ আমেরিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং পূর্বে এশিয়া।
এশিয়ার দÿিণাঞ্চলে ডিসেম্বর মাস থেকে মার্চের শুরুর সময় পর্যন্ত উত্তর পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু উত্তরের মৌসুমি বায়ু হিসাবে পরিচিত। এ মৌসুমী বায়ুর চাপ বিরাজ করে সাধারণত দÿিণ পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলেসিয়াতে। অস্ট্রেলেসিয়া এলাকার অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দেশ অসিয়ানিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউ গিনি এবং এর আশপাশে প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যান্য দ্বীপ হয়ে এ বায়ু সরাসরি প্রবাহিত হয় অস্ট্রেলিয়ার দিকে।
দÿিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রবাহিত হয় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমিবায়ু। এটি জুন থেকে শুরু হয়ে থাকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় মরুভ’মি ও এর সাথে সংশিøষ্ট এলাকা, ভারতের উত্তরাঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় এলাকাব্যাপী এ বায়ু প্রবাহিত হয়। এ অঞ্চলে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপ থেকে উৎপন্ন চাপ সৃস্টি করে বায়ূ শূন্যতার। আর ভারত মহাসাগর থেকে ভেজা বাতাস বেপরোয়াভাবে ছুটে আসে এই শূন্যতা পূরণের জন্য। পরবর্তীতে এর প্রবাহ এসে বাড়ি খায় হিমালয়ে। সুউচ্চ হিমালয় অতিক্রম করে সেন্ট্রাল এশিয়ার দিকে যেতে না পারায় জলকণাসমৃদ্দ এ বাতাস উপরের দিকে বাঁক নিয়ে আবার ফিরে আসে উল্টো পথে। গমনের ¯Íর থেকে ফিরে আসার ¯Íরে তাপমাত্রা কম হওয়ায় জলকণাগুলো রূপান্তরিত হয় মেঘে। আর এ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টিই ভিজিয়ে দিয়ে যায় ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান।
এ প্রবাহ জুন থেকে শুরু হয় এবং শেষ হয় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে। এ অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়। এর একটি প্রবাহ ছুটে আসে আরব সাগরের দিক থেকে এবং অপরটি আসে বঙ্গোপসাগর থেকে। আরব সাগর থেকে আসা মৌসুমি বায়ু পথমে আঘাত করে কেরালা রাজ্যের পশ্চিম দিকে। আর বঙ্গোপসাগর থেকে ভেসে আসা ভেজা বাতাস আঘাত হানে পূর্ব হিমালয়ে। এর ব্যাপ্তি বাংলাদেশসহ উত্তর পূর্ব ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গ। উত্তর পূর্ব দিক থেকে ছুটে আসে ভিন্ন এক বায়ুর প্রবাহ। এটি বিরাজ করে ভারত মহাসগর ও এর আশপাশের বায়ুমন্ডলে।
উত্তর আমেরিকর দিকে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ লÿ্য করা যায় জুনের শেষ দিক কিংবা জুলাই এর শুরুর দিকে। আর এর ইতি ঘটে সেপ্টেম্বরে। ম্যাক্সিকোতেই সাধারণত এর চাপ বিরাজ করে বেশি। তবে তা মধ্যজুলাইয়ের দিকে বি¯Íার লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের দÿিণ পশ্চিম এলাকায়। আফ্রিকান মৌসুমি বায়ু আটলান্টিকের বিষুবরেখা থেকে যাত্রা শুরু করে ফেব্রæয়ারি মাসে । তা পশ্চিম আফ্রিকায় পৌঁছে জুনের শেষ দিকে। আবার অক্টোবরে দÿিণে হয় এর ফিরতি প্রবাহ। ইউরুপে মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ হয় শীতের সময়। এ বিষয়টি অবাক হওয়ার মতো হলেও ইউরুপের ÿেত্রে এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা।

রহস্য
মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তি ও প্রবাহ পৃথিবীর জন্য এক বিস্ময়। নির্দিস্ট মৌসুমে অজস্র জলকণাসমেত এর আবির্ভাব সজীব করে তোলে প্রকৃতি। কারণ এর প্রবাহে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পানি। আর পানিই হলো জীবণের অনুষঙ্গ। কোথাও নোনা, কোথাও মিঠাপানি আবার কোথাওবা এগুলোর অদলবদলের কারনে ভারসাম্য বজায় রয়েছে জীববৈচিত্রের। প্রাাণের অ¯িÍত্ব টিকিয়ে রাখার অন্যান্য অনুষঙ্গগুলোর মতো পানির বিন্যাসও নিখুঁতভাবে করে রেখেছেন পরমসত্ত¡া। সৃস্টির সেরা জীব মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন মিঠা পানির। অবাক হতে হয়, পরম সত্ত¡ার অদৃশ্য ইশারায় ঠিকঠিকই বছরের নির্দিস্ট সময়ে বিপুল মিঠা পানির ভান্ডার ঝরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি। তারপর রসে পরিপূর্ণ মাটিতে গজিয়ে উঠছে তৃণ, সবুজ হয়ে উঠছে পৃথিবী। প্রকৃতির আরেক রহস্য এই বৃষ্টি! স্বাভাবিক হিসাবেই প্রশ্ন জাগে, কিভাবেইবা সাগরের লবনাক্ত পানি আকাশে ভাসতে ভাসতে পরিণত হয় মিঠা পানিতে! মৌসুমি বায়ুর প্রবাহে লবণাক্ত সমুদ্র থেকে উঠে আসে বাষ্প। তারপর প্রকৃতির নিখুঁত নিয়মে বিশুদধ খাবার পানিতে পরিণত হয়ে ঝর ঝরিয়ে ঝরতে থাকে পৃথিবীর কল্যাণে। এ এক অপার রহস্য। অবশ্য লবণাক্ত পানিকে বিশুদ্ধ খাবার পানিতে পরিণত করা মানুষের পÿে সম্ভব। কিন্তু তা অনেক ব্যয় স্বাপেÿ। আরো বিস্ময় হলো, সাগর থেকে যে বাষ্প বাতাসের সাথে মিশে যায় তা কেবল এইচটুও, অর্থাৎ ডিস্টিল ওয়াটার। কিন্তু প্রকৃত ডিস্টিল ওয়াটার মানুষের পানের উপযোগী নয়। এইচটুও এর সাথে আরো বিভিন্ন উপাদান থাকলেই কেবল তা মানুষ খেতে পারে। অথচ সমুদ্রের নোনা পানি বিষ্ময়করভাবে বিশুদ্ধ হয়ে যখন পৃথিব বুকে ঝরে ফোঁটায় ফোঁটায়, তখন তা থাকে অন্যান্য উপাদানসমেত সম্পূর্ণ পান করার উপযোগী। কেবল তা-ই নয় এ বৃষ্টির পানিই হলো খাবারের জন্য সবচেয়ে বিশুদ্ধ। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে জীব ও জগতের এসব রহস্য ক্রমেই জানতে শুরু করেছে মানুষ। হয়তো ভবিষ্যতে এমন অনেক কিছুই উন্মোচিত হবে, যা আজকের দুনিয়ার ধারণার বাইরে। তবে অধুনা জ্ঞান-বিজ্ঞানের এ বিপ্লব শুরু হয়েছে আর কয়দিনই হলো। এইতো বিশ শতকের ভেতরইতো বিজ্ঞান কেবল উদ্ভাবন করতে পারলো বাতাস থেকেই যে বৃষ্টির সৃস্টি। কিন্তু পরমসত্ত¡ার জীবণনির্দেশিকায় এসব বিষয় উলেøখ করা হয়েছে বহু আগেই। পবিত্র কোরআনে রয়েছে:
“আমি বহনকারী বায়ুরাশি প্রেরণ করি: তারপর আকাশ থেকে বারিবর্ষণ করি ও তা তোমাদেরকে পান করতে দিই, তার ভান্ডার তোমাদের কাছে নেই।” (সূরা হিজর-১৫ঃ২২)।
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/4/46/Rain_in_Kerela_01.jpg

শনিবার, মে ০৯, ২০০৯

হৃদয় পটে









রাত শেষে কেটে যাবে আঁধার যখন
কাঁচা রঙে লাল হবে সূর্য তখন
পৃথিবীতে কেঁপে এলো থির থির থির
আলোর ফোয়ারা হয়ে শিশুর শরীর।

সেদিন সকাল ছিলো ঝলোমলো ঝল
গানে উদাসী হলো পাখিদের দল।
বাতাসের ফিস ফিস কানাকানি রটে
কান থেকে বলে দিলো হৃদয় পটে
যার লাগি এতো সব তিনি শেষ নবী
দেহ মন মগজে রেখো তাঁর ছবি।

সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০০৯

অবারিত আকাশ


সামনে অবারিত আকাশ

রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০০৯

তলিয়ে যান সুখনিদ্রায়


শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ:

ঘুম! চোখের পাতা আর মেলে রাখা যায়না। ক্রমশ মাথা থেকে দূর হয়ে যেতে থাকে পৃথিবীর ভাবনা। নিভতে নিভতে এক হয়ে যায় পাতা। তখন পৃথিবীর আলো আর ভাবনা থেকে অনেক দূরে অন্য এক জগতে। সেখানে শুধূই প্রশান্তি আর তৃপ্তি। আমরা অনেকেই বুঝতেও পারিনা এ তৃপ্তির উপরই কতটা নির্ভর করে আমাদের শরীর, স্বাস্থ ও মনন। সুখনিদ্রায় তলিয়ে যেতে না পারলে সারাটা দিন-ই কেটে যায় অস্ব¯িÍ অতৃপ্তির সাথে। অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাসের কারণেই পুরো দিন কাটে অবসাদ এবং ঘোরের মধ্য দিয়ে। হারিয়ে যায় সময়ের ছন্দ। ঘুম প্রভাব ফেলে দৈনন্দিন রুটিনে এবং রুটিন প্রভাব ফেলে ঘুমে। যাদের রয়েছে অনিদ্রা রোগ, যাদের দু’চোখের পাতা এক করার জন্য নিয়মিত খেতে হয় ঘুমের বড়ি তাদের যন্ত্রণা কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারেন। সে কারণেই সুস্থতার জন্য প্রয়োজন একটি রুটিন করে নেয়া। ঘুম ও কাজের জন্য বেঁধে দিন নির্দিস্ট সময় এবং এর ছন্দ রেখে চলার চেস্টা করুন ঘড়ির কাটার সাথে ।

প্রতিদিন একই সময় বিছানা ছাড়ুন
প্রতিদিন একই সময়ে বিছানা ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ অভ্যাসের কারণেই নিরবচ্ছিন্ন প্রশান্তিময় রাতের ঘুমের শেষে শুরু হতে পারে সুন্দর একটি সকাল। আপনার মনের মতো করে সাজানো শয়নকÿটিতে মনোরম পরিবেশের পাশাপাশি এমন ব্যবস্থা রাখবেন যেন আলোর আনাগোনা সহজ হয়। সকালের কোমল আলো ঘরে প্রবেশ করে যখন চোখের পাতায় আলতু স্পর্শ করে যাবে আর গাইবে ঘুমভাঙ্গানির গাণ তখনি মিটমিট করে চোখ মেলুন। সাথে সাথেই সে আলো আপনার চেতনাকে ছুঁয়ে যাবে। স্বক্রীয় করবে চিন্তা এবং অনুভ‚তিকে।
‘ইউসিএল এ ¯িøপ ডিজর্ডারস সেন্টার’ এর পরিচালক ড. ফ্রীসকা এল ইয়ান-গু বলেছেন ‘সূর্যলোক ম¯িÍষ্ককে কার্যÿম করে তোলে’। সে বিবেচনায় প্রয়োজন প্রথম সূর্যালোকের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিদিন একই সময়ে বিছানা ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। তাহলেই প্রতিটি কাজ এবং রাতের ঘুম হবে স্বাস্থসম্মতভাবে।

মনের ভারসাম্য
আনন্দ, সুখ, বেদনার অনুভ‚তিগুলো মনের ভেতর প্রবাহিত হয় তরঙ্গের মতো। আর সে কারণেই কখনো উৎফুলø, কখনো মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে মানুষের মন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মনের পরস্পর বিপরীত এ দুটি অবস্থার মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আনা যায় ভারসাম্য।
সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর বিছানায় বসে থাকবেন দশ মিনিট। এ দশ মিনিট আপনি বরাদ্দ করে রাখুন প্রতিটি দিনের জন্য। সে সময়টাতে সোজা হয়ে বসবেন বিছানার উপর। তারপর চোখ দুটি বন্ধ করুন এবং আপনার সুন্দর জীবণের জন্য আলøাহর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুন। সেই সাথে নিজের মাঝে একটি সুখানুভ‚তি জাগ্রত করুন। আপনার এ সময়ের কৃতজ্ঞতা এবং নির্মল সূখানুভ‚তিটুকুই প্রশান্তিময় সারাদিনের উৎস।
এরপর বিছানা ছাড়–ন এবং প্রাত কাজগুলো একে একে সারতে থাকুন। এ সময়টুকুকে আপনি মনে করবেন ‘বুটিং পিরিয়ড’। অর্থাৎ গুছিয়ে নেয়ার সময়। এ সময় গুছিয়ে নেবেন নিজেকে। স্মরণ করার চেস্টা করবেন আজকের দিনে যে কাজগুলো করতে হবে সেগুলোর কথা। বিশৃঙ্খল ম¯িÍষ্ককে থরে থরে সাজিয়ে একটি শৃঙ্খলার মাঝে নিয়ে আসুন। আপনার গুছিয়ে নেয়ার জন্য ঘড়ির কাটা যতটুকু সময় বরাদ্দ করেছিল তা শেষ হওয়া মাত্রই নেমে যান কাজে। যদি পারা যায় ঘর থেকে বেরুনোর সময় সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এতে আপনার মাঝে চলে আসবে ফুরফুরে ভাব।
প্রশান্তির ঘুম এবং সুন্দর সকালের পর পেশাগত কাজে সূর্য যখন গড়িয়ে যাবে দুপুরে ততÿন বেশ ভাল মেজাজেই থাকবেন আপনি। এতটুকু অবসাদ ঘিরে ধরবেনা।
মনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য চাই মনকে সবসময় প্রফুলø রাখা। সকল ÿেত্রে সেটা সম্ভব না হলেও চেস্টাতো করতে হবে। সে চেস্টাগুলোর মাঝে একটি হলো কোন দুশ্চিন্তা তৈরি করতে পারে এমন সবকিছু এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে খুন এবং জখমের অপরাধ সংক্রান্ত খবরের প্রতি অতিরিক্ত কৌতুহল রাখবেন না। যাদের সাথে আপনার বনিবনা হয় তাদের সাথেই সময় বেশি কাটান। এমনকি খেলাধূলা করার জন্যও বন্ধুদের সঙ্গ আগে বাছাই করুন।

খাবার এবং বিশ্রাম
মানসিক প্রশা¯িÍ আর সুখনিদ্রা অনেকটাই নির্ভরশীল আপনার খাবারের তালিকা এবং সময়ের উপর। অবশ্যই আপনাকে সচেতন হতে হবে তিনবেলা খাবারের সময়ের ব্যাপারে। লÿ্য রাখতে হবে যা খাচ্ছেন তা স্বাস্থসম্মত এবং আপনার উপযোগি কিনা। আপনি কর্মজীবী হলে সকালের খাবার তালিকায় এমন কিছু উপাদান রাখবেন যেন এ থেকে সারা দিনের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে নিতে পারেন। আপনার কাজ এবং কাজের অবস্থানের উপর নির্ভর করবে দুপুরের খাবার। কর্মÿেত্রে দুপুরের খাবার খেতে হলে খেয়াল রাখবেন তা যেন অতিভোজন হয়ে না যায়। তুলনামুলক হালকা খাওয়ার চেস্টা করবেন। যদি সুযোগ থাকে দুপুরে খাবার পর অল্প সময়ের জন্য বিশ্রামে যেতে পারেন। সকাল থেকে দূপুর পর্যন্ত যতটুকু কান্তি ভর করেছিল ত্রিশ মিনিটের সে বিশ্রামটুকু ঝেরে ফেলে দিতে পারে সব। হ্যা ঘুমের জন্য আপনার সময়ের বরাদ্দ কম হলেও এর সবটুকুই কাটাবেন কেবল ঘুমিয়ে। প্রথম দিকে এটি অসম্ভব মনে হলেও পরবর্তীতে অভ্য¯Í হয়ে যাবেন। আপনি ইশারা দেবেন আর অমনি ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি এসে আপনাকে তুলে নিয়ে যাবে। তবে দুপুরের ঘুমের পূর্বমুহুর্তে অবশ্যই চেস্টা করবেন অন্যসব চিন্তুা মাথা থেকে সরিয়ে রাখতে। পরিবেশ নিযে আসুন আপনার অনুকুলে। ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রগুলোর জ্বালাতন এড়াতে গুছিয়ে নিন এগুলোকে। মোবাইল ফোনটি বন্ধ বা নিঃশব্দ করে রাখুন। ই-মেইলের ইনস্টেন্ট নোটিফিকেশন অফ করুন, রেডিও এবং টিভি বন্ধ রাখুন। তারপর ঘরের আলো নিভিয়ে দিন। আবছা অন্ধকার আর শান্ত পরিবেশই বলে দেবে এখন আপনার ঘুমের সময়।
আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে আপনার ম¯িÍষ্কের সময় সচেতনতার ÿমতা। ম¯িÍষ্ক ঘড়িকে এমনভাবে অভ্য¯Í করে তুলুন যেন যখন আপনার জেগে উঠতে হবে তখনি যেন ঘুম ভাঙ্গানোর সঙ্কেত দিতে থাকে। দেখবেন ঘড়ির কাটায় কাটায় ঘুম থেকে জেগে উঠেছেন আর এ অভ্যাসের কারণেই সময়ের কাজ সময়ে করে ফেলতে পারছেন। আর অলসতা করে হাতের কাজ ফেলে রাখা উচিত নয়। এমনটি করলে তা প্রভাব ফেলবে রাতের ঘুমের উপর। এলোমেলো কাজের জন্য ঘরে ফিরতে দেরি হবে আপনার। সেই সাথে বিছানায় যেতেও পারবেন না সঠিক সময়ে। আর কাজ বাকি রেখে বিছানায় গেলেও মানসিক অস্থিরতা ব্যাঘাত ঘটাবে ঘুমের। মনে রাখবেন সমগ্র চক্রের কোথাও ছন্দ পতন হলে তা কেবল হতেই থাকবে। কাজের মাঝেই খুঁজে নেন জীবণ।

নিজের দিকে দৃস্টি দিন
কাজ এবং উৎফুলøতা এ দুটোর সমন্বয়ের জন্য যথাযথ ঘুম জরুরি আর ঘুমের জন্য প্রয়োজন মানসিক স্বাচ্ছন্দবোধ। সুস্থতা এবং স্বাচ্ছন্দের জন্য অবশ্যই এগিয়েই থাকতে হবে আপনাকে। মনে রাখতে হবে, ঘুম হল স্বাস্থ এবং সুখের জন্য জরুরি। অবাঞ্চিত কোন শব্দ যদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় বলে আপনার মনে হয় তবে দ্রæত এর সমাধান করে ফেলুন। আপনার সঙ্গীর আচরণ কিংবা বিরক্তিকর শব্দে ঘুমের সমস্যা হলে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এতেও ফল না হলে আলাদা কÿের ব্যবস্থা করুন।
একান্ত নিজের প্রশান্তির জন্যই আপনার প্রয়োজন নিদ্রাবান্ধব একটি শয়নকÿ। আর এ কÿটিকে সাজানোর ব্যাপারে পরিচয় দিতে হবে নিজস্ব রুচির। সচেতন থাকতে হবে এর আসবাবসহ পরিবেশের উপর। আসবাবপত্র কেনার জন্য আপনি কখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগবেননা। নিজের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দিন বেশি। যখন কÿটিকে সাজানোর মনস্থির করবেন এরপর অন্তত ত্রিশ দিন ভাবুন এর অঙ্গসজ্জার ব্যাপারে। পরামর্শ করুন সঙ্গির সাথে। তারপর যেসব আসবাবে আপনাদের স্বাচ্ছন্দ হবে বলে মনে হয় সেগুলোই কিনে আনবেন। তবেই নিজের পছন্দে রুচিসম্মতভাবে সাজিয়ে তোলা কÿটিতে প্রতিদিন নিশ্চিন্তে হারিয়ে যেতে পারবেন সুখনিদ্রার অতলে।

হাতে রাখুন একান্ত সময়
বেশিরভাগ ÿেত্রেই দেখা যায় ঘুমের আগের সময়টুকুতে একেকজন ব্য¯Í থাকেন একেক কাজে। বিশেষ করে মহিলাদের মাঝে এ প্রবণতাটা একটু বেশি। পৃথিবীব্যাপী মহিলাদের অনিদ্রা রোগের কারণ নিয়ে ২০০৭ সালে একটি সংস্থার গবেষণায় দেখা যায় ঘুমানোর পূর্বের ১ ঘন্টা তারা কাটান বিভিন্ন ব্য¯Íতার মধ্য দিয়ে। কেউ গ্রহস্থালী কাজে, কেউ বাচ্চাকাচ্চাদের সামলানোতে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেউ ইন্টারনেট ব্রাউজিংএ সময় কাটিয়ে বিছানায় যান। আর এসবের প্রভাব মাথায় থেকে যায় এবং নানা চিন্তা ভীর করে দূরে সরিয়ে রাখে ঘুমকে। ঘন্টার পর ঘন্টা দু’চোখের পাতা বন্ধ রেখেও চেতনাকে বিলিন করতে পারেন না ঘুমের দেশে।
নিজের জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন ঘুমাতে যাবার আগে। সম্ভব হলে সে সময়ের ব্যাপ্তিটা হবে এক ঘন্টা বা এর কাছাকাছি। এ সময়টকু একান্তই আপনি কাটাবেন নিজেকে দম দেয়ার জন্য। ঘড়িতে যেমন করে দম দেয়া হয় পরবর্তীতে সঠিক সময় নির্দেশ করতে, তেমনি আপনি এই সময়টুকুর মধ্যে পরিকল্পনা তৈরি করবেন আগামীকালের। ভাববেন আজকের স্বাপেÿে আগামীকাল কি কি করা উচিৎ। সমালোচনা করবেন আজকের কাজগুলোর এবং একটি পরিসংখ্যান দাঁড় করাবেন সঠিক-বেঠিকের । তারপর নিদ্রায় তলিয়ে যাবার পূর্বমুহুর্তে ম¯িÍষ্ক ঘড়িতে সঙ্কেত দিয়ে রাখবেন যথাসময়ে জেগে উঠার জন্য। চক্রাকারে এরকম অনুশীলনে অভ্য¯Í হতে পারলে ঘুম আসতে সময় নেবেনা একদম । পাশাপাশি তলিয়ে যেতে পারবেন গভীর সুখনিদ্রায়। আর এ নিদ্রাতো শুষে নিচ্ছেই সকল কান্তি এবং অবসাদ।

শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০০৯

ফাঁক ফেয়ে এক কাক


পিঞ্জিরাটার দরজা নাকি
একটু ছিলো ফাঁক
সেই সুযোগে উড়াল দিলো
আটকে থাকা কাক!
আড়েমাড়াটা ভেঙ্গে ডানা
মেললো নীলিমায়,
ভাবলো এমন খুশীর দিনে
কোনটা করা যায়।
জর্দা দিয়ে পান চিবুবে
করলো ভেবে ঠিক,
ফেলবে মাথায় পথচারীদের
মলের সাথে পিক।

জর্দা-খয়ের-পান-সুপারীর
সাথে খেয়ে চুন
তীব্র ঝাঁঝে পাগল হলো
চড়লো মাথায় খুন।
রাস্তা এবং পার্কে গিয়ে
ঠুকরে দিলো লোক,
শহর জুড়ে কাকের ভয়ে
কাঁপলো সবার বুক।
এক বিকেলে বুদ্ধি এঁটে
শহরবাসী সব
আনলো লাঠি-খন্তা-কুড়াল
দারুণ কলরব।

কিন্তু কাকের ঠোকর কেয়ে
ঝরলো অনেক প্রাণ
কেউবা আবার নাক হারালো
কেই হারালো কান।
খবর পেয়ে আসলো পুলিশ
আসলো বিশষ ফোর্স,
গতিক ভালো নয় দেখে কাক
ধরলো আরেক কোর্স।

কোথায় নকল চুলগুলি

চুল গজানোর রূপ নিয়ে
ভাবছে খোকন বড়শী ফেলে টুপ দিয়ে
কেমনে চুলের ফাঁক ঘুরালো
টাকু মামুর টাক ফুরালো
মাছ না পেয়ে ভাবছে শুধুই ভাবছে যে
উত্তেজনায় থরো থরো কাঁপছে সে।

হঠাৎ মামু কেমন করে কোত্থেকে
এসেই হাজির বড়শী পাতার জোত দেখে।
যেইনা মাছে ঠোঁট বাগিয়ে
টোপ টেনেছে চোট লাগিয়ে
অমনি খোকন সাঁই করে ছিপ টান দিতেই
মাছসহ তা পরলো মামুর চান্দিতেই।

টাকু মামু তার পেছনে, জানতো না
জানলে এমন মাছ দেখে ছিপ টানতো না।
বড়শী এঁটে টানলো চুলে
হ্যাঁচকা টানে আনলো তুলে।

তেল-তেলে সেই টাক দেখে এক বুলবুলি
ব্যঙ্গ করে হেসেই বলে, কোথায় নকল চুলগুলি?

বিষ্ঠা রহস্য


অর্ধ ছেলা চান্দি মেলে
মানি বাবু যাচ্ছিলেন
আপন মনে গুনগুনিয়ে
একটা কিছু গাচ্ছিলেন।

হঠাৎ কীযে পড়লো এসে
উপর থেকে চান্দিতে
চমকে গিয়ে তপ্ত আঁচে
ভুললো গানে টান দিতে।

ঘটলো কীসব আজব ব্যাপার
বুঝতে বাবু হাত দিয়ে
একটুখানি আনলো তুলে
চিন্তা ফিকির বাদ দিয়ে।

ফিকে-সাদা ক্রিমের মতো
বস্তুটা কি ভাবতে হয়!
সবার আগে নাকের কাছে
গন্ধটা তার মাপতে হয়।

কৌতুহলে জিহ্বা দিয়ে
চেখেই দেখেন ঝাঁজ আছে
তাইতো ভাবেন, এটার বুঝি
প্র্যাকটিকেলি কাজ আছে।

নিন্দুকেরা বলছে বাবু
কীসব দিয়ে হাত মাজেন
আবার নাকি কাকের ছাওয়ের
বিষ্ঠা দিয়ে দঁাত মাজেন।

শেয়ার করে সস্তাতে

দুলা: সুঁই কিনেছি ঢাকায় এসে
আগের চেয়ে সস্তাতে
নয়তো গাঁয়ের দোকান থেকে
কিনলে হতো পস্তাতে।

আলফা: ভাগ্য ভালো বুদ্ধি এঁটে
এসেই গেলাম ঢাকায় হেটে
চড়া দামে কিনলে তখন
কেমন হতো লস্‌ তাতে।

দুলা: গাঁয়ের বেটা জ্যন্ত ডাকাত
দাম হেঁকেছে আট আনা
তুই এগুলে গাল বরাবর
জোরসে দিতাম চাটকানা।
জিহ্বা টেনে সুঁই ফুটিয়ে
চড়া দামের সাধ চুটিয়ে
একটি কোপে কল্লা কেটে
ভরেই দিতাম বস্তাতে।

আলফা: এই আবারো পরলি পিছে
হাটার গতি শ্লথ নাকি?
জোর কদমে চলরে দুলা
আরো অনেক পথ বাকি।
আলসেমিটা দূরে ঠেলে
ক্লান্তি দেহের ছুঁড়ে ফেলে
এক নাগাড়ে পা চালিয়ে
পৌঁছতে হবে দশটাতে।

দুলা: সামনে যেতে পারছি না আর
বুকের ভেতর ফালপারে
আমার হাতের সুঁইটা তবে
রাখনা এখন আলফারে।
কিনছি ওটা শেয়ার করে
কিন্তু একা বেয়ার করে
ভেবেই দেখি ক্ষয় করেছি
নিজেই নিজের যশ তাতে।

আলফা: আমিই বহন করবো কেন
বিচার করে দেখনারে
তারচে ধরি দু মাথাতে
তুই-আমি চল একসারে।
উদাস করা গানের কলি
কণ্ঠ ছেড়ে আওড়ে চলি
চাঙ্গা হয়ে নতুন করে
লাগবে মনে রস তাতে।

দুলা: ভাবনাটা তোর মন্দনারে
কিন্তু ছোট সুঁইটাতে
কেমন করে ধরবো এখন
মস্ত এমন দুই হাতে!
কলাগাছে সুঁইটা গেঁথে
কাঁধে তুলে যেতে যেতে
নৃত্য করে ঘাড় উঁচিয়ে
গাছটি কলার ঘঁষ তাতে।

সোনালি চুলের এক দিগ্বিজয়ী বীর

শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ:
দশ বছরের এক কিশোর। অন্যদের মত সাধারণ নয়, ঝাঁকড়া সোনালী চুলের এ কিশোর প্রতাপশালী এক রাজ্যের রাজপুত্র। রাজ্যে একটি ঘোড়া ছিল অদ্ভূত বৈশিষ্টের। এর মাথার আকৃতি ষাঁড়ের মত দেখতে। সুগঠিত পেশীর এই ঘোড়ার গায়ে প্রচন্ড শক্তি, প্রসস্ত দেহ, চওড়া পিঠ। তেজে টগবগ করত সারাক্ষণ। কেউ বাগে আনতে পারেনি একে। তাই রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন ঘোড়াটি বিক্রি করে দেবেন। একথা কানে যেতেই কিশোর রাজপুত্রের মন বিষন্ন হয়ে গেল। কারণ এ ঘোড়টির মধ্যে সে তার নিজের ছায়া দেখতো। কেন জানি কিশোর যুবরাজের ইচ্ছা হতো এর পিঠে সওয়ার হয়ে তীর বেগে ছুটে যাওয়ার। ইচ্ছা হত দিগন্ত ভেদ করে সকালের উদিয়মান সূর্যের লাল টকটকে গোলকের ভেতর মিলিয়ে যেতে। ঘোড়াটা বিক্রির ব্যাপারে সবকিছু যখন চূড়ান্ত, কিশোর রাজপুত্র আর তর সইতে পারলোনা। একলাফে অভিজ্ঞ সওয়ারীর মত চড়ে বসল এর পিঠে। সাথে সাথেই চিহি ডাক তুলে তাকে পিঠে নিয়ে ছুটলো উল্কার মত। অ™ভ‚ত তেজী এ ঘোড়ার পিঠে সেঁটে বসা ছোট্ট এ কিশোরকে মনে হয়েছিল একটি ধনুক। ঘটনা দেখেতো সবাই তাজ্জব। বাবা বুকে জড়িয়ে ধরে চুমো খেলেন। উৎফুলø হয়ে সেদিন তিনি বলেছিলেন “আমার সন্তান, তুমি এ রাজ্যের বাইরেও সীমান্তকে সম্প্রসারণ কর। কেবল ম্যাকডোন তোমার জন্য যথেস্ট নয়।”
সত্যিই হল সেকথা। এই কিশোরই পরবর্তীতে দিগি¦জয়ী হয়েছিল, শাসন করেছিলো অর্ধেক পৃথিবী। ইতিহাস খ্যাত বীর আলেকজান্ডারই হলো সেই কিশোর এবং ম্যাকডোনের শাসক ফিলিপ-২ ছিলেন তার বাবা। মায়ের নাম অলিম্পিয়া।
ভালবাসার সেই ঘোড়াটি সবসময় তার কাছে প্রিয়-ই ছিলো। এর নাম ছিলো বুচিফালুস। যার অর্থ হল ষাঁড়ের মত মাথা। সকল অভিযানে ভালবাসার বুচিফালূসের পিঠে চড়ে ছুটতেন তিনি। আলেকজান্ডার এটিকে এমন ভালবাসতেন যে, ঘোড়াটি মারা যাবার পর এর নামে একটি শহরের নামকরণ করেছিলেন। যা বুচিফালুস বা বুচিফালা নামে পরিচিত। অনেকে মনে করেন বুচিফালুসের মৃত্যু হয়েছে ভারতের যুদ্ধে। আবার অনেকের ধারণা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধ হয়ে ঘোড়াটি মারা যায়।
বাবা ফিলিপ এবং মা অলিম্পিয়া
আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট। যার জন্ম নিয়েই রয়েছে নানা কিংবদন্তী। বাবা ফিলিপ এবং মা অলিম্পিয়া আলেকজান্ডারের জন্মের পূর্বে অদ্ভূত ধরনের স্বপ্ন দেখতেন। ফিলিপ দেখেছিলেন, তিনি অলিম্পিয়ার গর্ভে সিংহের মোহর প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন। এ স্বপ্নটি নিয়ে রাজ্যের গণকদের সাথে কথা বললে তারা ভবিষ্যদ্বানী করেন, শীঘ্রই অলিম্পিয়ার গর্ভে একটি ছেলে সন্তান আসছে। এ সন্তানটি হবে সিংহের মত।
কিংবদন্তীর আলেকজান্ডার ৩৫৬ খ্রিস্টপূর্বে জন্মগ্রহণ করেন ম্যাকডোনের রাজধানী পেলাতে। তিনি ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সফল সেনানায়ক এবং সুকৌশলী যুদ্ধা। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছিলো তাঁর সাহস আর প্রতাপের কথা। বাবা ফিলিপ-২ এর মৃত্যুর পর পারস্য, এনাটোলিয়া, সিরিয়া, ফইনিসিয়া, জুদিয়া, গাজা, মিশর, ব্যক্ট্রিয়া, মেসোপটেমিয়া এবং ভারতের পাঞ্জাব পর্যন্ত তাঁর শাসন বিস্তৃত হয়।
ছোটবেলার শিক্ষক এরিস্টটলের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বুদ্ধিবৃত্তির এতটা প্রসার ঘটেছিল যে, তিনি সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক করতেন। আলেকজান্ডারের বয়স যখন ১৩, তখন থেকে তিনি এরিস্টটলের ছাত্র হয়ে যান। নিয়মিত এরিস্টটলের কাছে তাত্তি¡ক ও ব্যবহারিক শিক্ষা নিতেন। এরিস্টটল তাকে সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র, মানুষের আচরণবিধি, পশু পাখি জীব জন্তু ও শস্যসহ অনেক বিষয়ই ছিল তার শিক্ষনিয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। এরিস্টটলের কাছে এসব শিক্ষা পুঁথিবদ্ধ ছিলনা। আলেকজান্ডারের শরীর গঠনের জন্য নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করার অভ্যাসও তৈরি হয় এরিস্টটলের মাধ্যমে।
ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রথম দিক থেকেই আলেকজান্ডারের পরিকল্পনা ছিলো আরব উপদ্বীপে তাঁর সৈন্যবাহিণী এবং অর্থনৈতিক ব্যাপকতা প্রসারিত করবেন। পূর্ব-পশ্চিম সকল দিকের শাসক হবেন তিনি। সে কারণে প্রয়োজন একটি চৌকস সেনাবাহিনীর। সে লক্ষে কাজও করেছেন তিনি, বিভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন ভ‚মি ও আবহাওয়ায় সৈন্যদেরকে খাপ খাওয়ানোর জন্য ব্যাপকহারে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে তিনি তার সেনাবাহিনী গঠন করেন। এসব কৌশল এবং পন্থা অবলম্বন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে কেবল এরিস্টটলের ছাত্র হওয়ার সুবাদে।
আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট সম্বন্ধে রয়েছে অনেক আলোচনা, পর্যালোচনা, সুনাম, দুর্নাম। প্রচলিত রয়েছে অনেক কাহিনী। উদার, হিংস্র কিংবা কৌশলী বিভিন্ন আখ্যায় আখ্যায়িত করা হয় তাকে। তার সম্বন্ধে ভাষ্য রয়েছে বাইবেলসহ নানা ধর্মগ্রন্থে, কালজয়ী বিভিন্ন সাহিত্যে। মুসলমান পন্ডিতদের কেউ কেউ মনে করছেন পবিত্র কোরআনে বর্ণিত জুলকারণাইন-ই হলো আলেকজান্ডার। আসলেই কি তাই!
আলেকজান্ডারের রাজত্ব
ম্যাকডোনের সিংহাসনে আলেকজান্ডার
৩৩৯ খ্রিস্টপূর্বে আলেকজান্ডারের বাবা যখন ৫ম স্ত্রী কিউপেট্রা ইউরিডাইসকে বিয়ে করে আনেন তখন থেকে শুরু হয়ে যায় পারিবারিক দ্বন্দ। এর পেছনের কারণ হলো জাতিয়তাবাদী চেতনা। আলেকজান্ডারের মা অলিম্পিয়া ছিলেন এপিরাসের অধিবাসিনী। অপরদিকে ৫ম স্ত্রী কিওপেট্টা ছিলেন নিখাঁদ ম্যাকডোনের কণ্যা। এ জাতিয়তাবাদ নিয়েই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক নানা চক্রান্ত। অলিম্পিয়া এবং কিউপেট্রার মাঝে চলতে থাকে ঠান্ডা লড়াই। কিউপেট্রা এবং তার পক্ষের লোকজন আলেকজান্ডারের উত্থানকে সহ্য করতে পারতনা। এপিরাসের কণ্যার গর্ভের সন্তান কখনো ম্যাকডোনের রাজার উত্তরাধিকারী হতে পারেনা। ম্যাকডোনের সিংহাসনে চাই নিখাঁদ ম্যাকডোনের সন্তান। এ যুক্তির পক্ষে সিংহাসনের উত্থরাধিকারী নিয়ে অলিম্পিয়াকে কোণঠাসা করার চেস্টা চলত। সম্ভবত এসব কারণেই পরবর্তীতে আলেকজান্ডারের ক্ষোভ জন্মেছিল এবং তার শাসনামলে তার বাহিনীতে বিভিন্ন অঞ্চলের সেনা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল।
৪র্থ এবং ৫ম স্ত্রীর মাঝে ঠান্ডা লড়াই ফিলিপ পর্যন্ত গড়ায়, এ বিষয়টি নিয়ে আলেকজান্ডার ও ফিলিপের মাঝে বাক-বিতন্ডাও হয়। আলেকজান্ডারের একটি বেপরোয়া চিৎকারের জবাবে বাবা তাকে লক্ষ্য করে তলোয়ার ছুঁড়ে মেরেছিলেন। এর জের ধরেই মাকে নিয়ে আলেকজান্ডার ম্যাকডোন ত্যাগ করে এপিরাসে চলে যান। কিন্তু তার বোন থেকে যায় ম্যাকডোনেই। সেই বোনের নামও ছিলো কিওপেট্রা।
এর কিছুদিন পর ফিলিপ এবং আলেকজান্ডারের মাঝে আবার সমঝোতা হয় এবং সে আবার ম্যাকডোনে ফিরে আসে। কিন্তু মা থেকে যান এপিরাসে। ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বে বাবার অধীনে আলেকজান্ডার চীরুলিয়া যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করেন। এতে ফিলিপ তাকে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অধিনায়ক করে দেন এবং তার বীরত্বের জন্য উৎসবের আয়োজন করেন।
৩৩৬ খ্রিস্টপূর্বে ফিলিপ তার মেয়ে ক্লিওপেট্রার বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘাতকদের আক্রমণে মারা যান। কেউ কেউ মনে করেন বিয়ে সংক্রান্ত জটিলতা নিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। হয়তো মেয়ের সাবেক প্রেমিক কিংবা মেয়ের স্বামীর সাবেক প্রেমিকা ছিলো ঘাতক। আবার আরেকটি ধারণা রয়েছে যে, ফিলিপকে হত্যা করার পেছনে আলেকজান্ডার এবং অলিম্পিয়ার হাত রয়েছে। অবশ্য এ ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায় অনেক অনেক বছর পর ইতিহাসের গতি কারো কারো পছন্দমত বাঁক খায়নি এর কি নিশ্চয়তা? বরং ইতিহাসের অনেক ঘটনা বর্তমান বর্ণনায় উল্টো হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।
ফিলিপ-২ এর মৃত্যুর পর সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুকৌশলী সেনানায়ক আলেকজান্ডার মাত্র ২০ বছর বয়সে আরোহণ করেন ম্যাকডোনের সিংহাসনে। সেনাবাহিনী মেনে নেয় তার আনুগত্য।

আলেকজান্ডার এবং রুক্সানা
আলেকজান্ডার এবং তার সেনাপতি হেফিশন এক জাকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দারিউসের দুই কন্যাকে বিয়ে করেন
File:Hephaistion portrait Prado bronze sketch.jpegসেনাপতি হেফিশন

ব্যক্তিগত জীবন
আলেকজান্ডারের জীবনের দীর্ঘ সময়ের সাথী ছিলেন তার সেনাপতি হেফিশন। তাছারা হেফিশন ছিল তার একজন বড় বন্ধু। তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হেফিশন-ই ছিল বাহিনীর ২য় ব্যক্তি।
আলেকজান্ডার বিয়ে করেন ২টি। প্রথম স্ত্রী ব্যক্ট্রিয়ার আদর্শ কণ্যা রুক্সানা। অপরজন পারস্যের রাজা দারিউস-৩ এবং তার স্ত্রী স্ট্যটেইরা-১ এর কণ্যা স্ট্যটেইরা-২। রুক্সানার জন্ম ৩৪১ খ্রিস্টপূর্বে। ব্যক্ট্রিয়ায় রুক্সানার জন্ম স্থান সম্বন্ধে অনেকের ধারণা তা বর্তমান আফগানিস্তান। আলেকজান্ডারের সাথে রুক্সানার বিয়ে হয় ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বে। অপর স্ত্রী স্ট্যটেইরার সাথে বিয়ে হয় ৩২৪ খ্রিস্টপূর্বে। পারস্যের রাজা দারিউস-৩ আলেকজান্ডারের সাথে যুদ্ধে হেরে গিয়ে স্ত্রী, দুই কন্যা এবং মাকে রেখে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পর আলেকজান্ডার এবং তার সেনাপতি হেফিশন এক জাকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দারিউসের দুই কন্যাকে বিয়ে করেন। আলেকজান্ডারের সাথে বিয়ে হয় স্ট্যটেইরা-২ এর এবং তার বোন ড্রিপটেইসকে বিয়ে করে হেফিশন।
আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর পরিবারে রাজ্যের হাল ধরার মত কেউ ছিলেননা। তার ভাই ফিলিপ এরিডাস তখন ছিল মানসিকভাবে অসুস্থ। অপরদিকে ছেলে আলেকজান্ডার-৪ এর জন্মই হয় তার মৃত্যুর পর। তাই বিশাল এ সাম্রাজ্যকে এক করে রাখা সম্ভব হয়নি। সেনাপতিদের মাঝে ভাগ হয়ে চারটি সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।

মৃত্যু ও কফিন
আলেকজান্ডারের মৃত্যু নিয়ে কয়েকটি ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, তাকে বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে। কারো মতে পূর্বের ম্যালেরিয়া রোগ আবার তাকে আক্রমণ করেছিল। আবার কেউ মনে করছেন কেবল মাত্র অতিরিক্ত মদ্যপান-ই তার মৃত্যুর কারন। ৩২৩ খ্রীস্টপূর্বের ২৯মে আলেকজান্ডার তার বন্ধুদের সাথে একটি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মদ্যপান করেন। তখন থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে যান। বিছানায় পতিত তরুণ শাসক তখন কথাও বলতে পারেননি। নির্দেশনা দিতে পারেননি জেনারেল ও সৈন্যদেরকে। এমনকি হাত উঁচু করাও তার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। এভাবে কয়েকদিন মাত্র। ৩২৩ খ্রীস্টপূর্বের ১০ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন ব্যবিলনের নেবুচাড্্েরজার-২ এর প্রাসাদে। তার জীবনকাল ছিল ৩৩ বছরের চেয়ে ১ মাস কম।
বর্তমানে আলেকজান্ডারের কফিন সংরক্ষিত রয়েছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল জাদুঘরে। এটি ১৮৮৭ সালে লেবাননের সিডন এর কাছাকাছি কোন একটি স্থান থেকে পাওয়া যায়। আলেকজান্ডারের দেহের ধারক মানুষের আকৃতির এ কফিনটি স্বর্ণের তৈরি। এটি বর্তমানে একটি প্রতীকি ঢিলা কাপড় দিয়ে ঢাকা রয়েছে। কফিনের পাশেই রয়েছে তার ব্যবহৃত অস্ত্রসস্ত্র।
আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি সম্পদ ও ক্ষমতার লোভে অভিযান চালাতেন। ÿমতার দম্ভ ও সম্পদের জন্য তিনি ছিলেন বেপরোয়া। কিন্তু এ কথাও প্রচলিত রয়েছে যে, সহযোগিদের প্রতি আলেকজান্ডারের শেষ অনুরোধ ছিল মৃত্যুর পর তার হাত দুটো যেন কফিনের বাইরে প্রসারিত করে রাখার হয়। যেন সবাই দেখতে পায় বিশ্ববিজয়ী বীর আলেকজান্ডার পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে শূন্য হাতে। বিশাল সাম্রাজ্যের কিছুই তিনি সাথে করে নিয়ে যেতে পারেননি।

বাইবেল এবং আলেকজান্ডার

বাইবেলে আলেকজান্ডারের প্রতীকি বর্ননা রয়েছে। এখানে আলেককজান্ডারের প্রতীক হিসেবে দুইটি শিং এর উলেøখ রয়েছে।
দানিয়েল ৮ঃ৫-৮ পদে রয়েছে “ ... পশ্চিমদিক হইতে এক ছাগ সম¯Í পৃথিবী পার হইয়া আসিল, ভ‚মি স্পর্শ করিল না, আর সেই ছাগের দুই চুর মধ্যস্থানে বিলÿণ একটা শৃঙ্গ ছিল। পরে দুই শৃঙ্গবিশিষ্ট যে মেষকে আমি দেখিয়াছিলাম, নদীর সম্মুখে দাঁড়াইয়া আছে, তাহার কাছে আসিয়া সে আপন বলের ব্যগ্রতায় তাহার দিকে দৌড়িয়া গলে। আর আমি দেখিলাম, সে মেষের কাছে আসিল, এবং তাহার উপরে ক্রোধ উত্তেজিত হইল, মেষকে আঘাত করিল, ও তাহার দুই শৃঙ্গ ভাঙ্গিয়া ফেলিল, তাহার সম্মুখে দাঁড়াইবার শক্তি ঐ মেষের আর রহিল না, আর সে তাহাকে ভ‚মিতে ফেলিয়া পদতলে দলিতে লাগিল, তাহার হ¯Í হইতে ঐ মেষটীকে উদ্ধার করে, এমন কেহ ছিল না। পরে ঐ ছাগ অতিশয় আত্মগরিমা করিল, কিন্তু বলবান হইলে পর সেই বৃহৎ শৃঙ্গ ভগ্ন হইল, এবং তাহার স্থানে আকাশের চারি বায়ুর দিকে চারিটী বিলÿণ শৃঙ্গ উৎপন্ন হইল। ..”
পরবর্তীতে ২১-২২ পদে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে “ ... তুমি দুই শৃঙ্গবিশিষ্ট যে মেষ দেখিলে, সে মাদীয় ও পারসীক রাজা। আর সেই লোমশ ছাগ যবন দেশের রাজা, এবং তাহার দুই চুর মধ্যস্থানে যে বৃহৎ শৃঙ্গ সে প্রথম রাজা। আর তাহার ভগ্ন হওয়া, ও তৎপরিবর্ত্তে আর চারি শৃঙ্গ উৎপন্ন হওয়া, ইহার মর্ম্ম এই, সেই জাতি হইতে চারি রাজ্য উৎপন্ন হইবে, কিন্তু উহার ন্যায় পরাক্রম-বিশিষ্ট হইবে না। ...”
পশ্চিম দিক থেকে আগত এই ছাগ বা ছাগলটি ছিল গ্রীক সাম্রাজ্যের প্রতীক এবং বড় বড় শিংগুলো ছিল আলেকজান্ডারের প্রতীক, যিনি তার ÿমতার সর্বোচ্চ শিখরে থাকার সময় অকালে মারা যান। পরবর্তীকালে এ সাম্রাজ্য তার চারজন সেনাপতির মাঝে ভাগ হয়ে যায়।

কাসপিয়ান গেট
পবিত্র কোরআন এবং আলেকজান্ডার
পবিত্র কোরআনে ‘আলেকজান্ডার’ নামে সরাসরি কোন ভাষ্য নেই। তবে কোন কোন মুসলিম পন্ডিতগণ মনে করেন সূরা কাহাফ্-এ বর্ণিত জুলকারণাইনই হলেন আলেকজান্ডার। আরব উপদ্বীপে জুলকারণাইন নামটি পরিচিত ছিল অল্প বয়সে অধিক ক্ষমতাধর শাসক হিসেবে। জুলকারণাইন শব্দটির অর্থ হল দুই শিং বিশিস্ট। এ নামকরনের কারণ সম্পর্কে বহু কথা রয়েছে। কেউ বলেন: তাঁর মাথার চুলে দু’টি গুচ্ছ ছিল, যেগুলো দেখতে শিংএর মত। বেউ বলেন: পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যদেশগুলো জয় করার কারণে জুলকারণাইন খেতাবে ভ‚ষিত হয়েছিলেন তিনি। কেউ এমনও বলেছেন যে, তাঁর মাথায় শিং এর মত দু’টি চিনহ ছিল। অনেকের ধারণা এগুলো ছিল ক্ষত চিনহ। কিন্তু কয়েকজন মুফাচ্ছির বলেছেন এটা নিশ্চিত যে, কোরআন স্বয়ং তাঁর নাম জুলকারণাইন রাখেনি; বরং ইহুদীরা এ নাম দিয়েছিল। ইসলামী পন্ডিতদের অনেকেই কোরআনে বর্ণিত জুলকারণাইনের বৈশিষ্টগুলোর সাথে আলেকজান্ডারের বৈশিষ্টের মিল খুঁজে পান। এর মাঝে উলেøখযোগ্য হলো আলেকজান্ডারও ‘দুই শিং বিশিস্ট’ হিসেবে খ্যাত এবং তিনি পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের দেশগুলো জয় করেছিলেন। তাছারা বাইবেলেও আলেকজান্ডারকে দুই শিংবিশিস্ট বলেই অভিহিত করা হয়েছে।
আলøাহতাআয়ালা বিভিন্ন সময় পৃথিবীর মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। এদের মাঝে মাত্র কয়েকজনের নাম কোরআনে উলেøখ রয়েছে। নবী হিসেবে জুলকারণাইন এর নাম উলেøখ নেই, আবার তিনি নবী ছিলেননা এমনটিও বলা হয়নি। তাই পন্ডিতদের কেউ কেউ বলছেন হয়তো জুলকারণাইন আলøাহ প্রেরিত নবীদের মাঝে একজন ছিলেন। হয়তো সে কারনেই নিপীড়িত মানুষ সাহায্য, সহযোগিতার জন্য তাঁর কাছে ছুটে আসত। অনুসরণ করতো তাঁর দিক নির্দেশনা। তিনি নবী ছিলেন কি ছিলেননা, সে বিতর্কে না গিয়ে জুলকারণাইন-ই হলেন আলেকজান্ডার পন্ডিতদের একাংশের এ ধারণা কিভাবে হলো, তা স্পস্ট হবে কোরআনের এ বর্ণনা থেকে
“ ওরা তোমাকে জুলকারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বলো, ‘আমি তোমাদের কাছে তার কথা বয়ান করব।’ আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম ও প্রত্যেক বিষয়ের উপায় ও পথনির্দেশ করেছিলাম। সে এক পথ অবলম্বন করল। চলতে চলতে সে যখন সূর্যের অ¯Íাচলে পৌঁছাল তখন সে সূর্যকে এক পঙ্কিল জলে অ¯Í যেতে দেখল এবং সে সেখানে এক স¤প্রদায়কে দেখতে পেল। আমি বললাম, ‘হে জুলকারণাইন! তুমি এদেরকে শাস্তি দিতে পার বা এদের সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।’
সে বলল, ‘যে-কেউ সীমালঙ্ঘন করবে আমি তাকে শা¯িÍ দেব, তারপর তাকে প্রতিপালকের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে ও তিনি তাকে কঠিন শা¯িÍ দেবেন। তবে যে বিশ্বাস করে সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান হিসেবে আছে কল্যাণ ও তার সাথে ব্যবহার করার সময় আমি সহজভাবে কথা বলব।’
আবার সে এক পথ ধরল। চলতে চলতে যখন অরুণাচলে পৌঁছল তখন সে দেখল তা (সূর্য) এমন এক স¤প্রদায়ের ওপর উঠছে যাদের জন্য সূর্যের তাপ থেকে আত্মরÿার জন্য আমি কোনো আড়াল সৃষ্টি করি নি। প্রকৃত ঘটনা এই, তার বিবরণ আমি ভালো ক’রে জানি।
আবার সে এক পথ ধরল। চলতে চলতে সে যখন পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে পৌঁছল তখন সেখানে সে এক স¤প্রদায়কে পেল যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। ওরা বলল, ‘হে জুলকারণাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছে; আমরা কি তোমাকে কর এই শর্তে দেব যে তুমি আমাদের ও ওদের মধ্যে এক প্রাচীর গ’ড়ে দেবে?
সে বলল, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা-ই ভালো। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য করো, আমি তোমাদের ও ওদের মাঝখানে এক মজবুত প্রাচীর গড়ে দেব। তোমরা আমার কাছে লোহার তাল নিয়ে আসো।’ তারপর মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা পূর্ণ হয়ে যখন লোহার ঢিপি দুটো পাহাড়ের সমান হল তখন বলল, ‘তোমরা হাপরে দম দিতে থাকো।’ যখন তা আগুনের মতো গরম হল তখন সে বলল, ‘তোমরা গলানো তামা নিয়ে আসো, আমি তা ওর ওপর ঢেলে দেব।’
এরপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তা পার হতে পারল না বা ভেদ করতেও পারল না। সে (জুলকারণাইন বলল, ‘এ আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রæতি পূর্ণ হবে তখন তিনি ওকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন, আর আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।’
সেদিন আমি ওদেরকে দলেদলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব, আর শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। তারপর আমি ওদের সকলকেই একত্র করব। আর সেদিন আমি জাহান্নামকে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত করব অবিশ্বাসীদের কাছে, যাদের চু আমার নিদর্শনের প্রতি ছিল অন্ধ, আর যাদের শোনারও ক্ষমতা ছিল না।” (সূরা কাহাফ্ ৮৩-১০১)
জুলকারণাইন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়াতেন নির্যাতীত, বঞ্চিত, শাসকের হাতে শোসিত লোকদের মুক্তি দিতেন। আলেকজান্ডারের বেলায়ও ঘুরে বেড়ানোর এবং রাজ্য জয় করার ইতিহাস রয়েছে। কুরআনের বর্ননা অনুযায়ী অরুণাচলে, যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেখানে ইয়াজুজ, মাজুজের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন জুলকারণাইন। আর সে স্থানটি পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে। এই বর্ণনার সাথে মিলে যায় এমন একটি দেয়াল রয়েছে কাসপিয়ান সাগর উপক‚লে। ইতিহাসবিদদের দ্বারা স্বীকৃত যে এ দেয়াল তৈরি করেছিলেন আলেকজান্ডার। যা তৈরি করতে লোহা ও তামা ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে একটি তোরণ রয়েছে যেটি ‘কাসপিয়ান গেট’ বা আলেকজান্ডারের গেট নামে পরিচিত। দারিয়াল এবং ডারবেন্ট নামে দুটি শহরে এর ব্যপ্তি। দারিয়াল রাশিয়া এবং জর্জিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। এটিকে বলা হয় কাজবেক পাহাড়ের পূর্ব প্রাম্ভ। ডারবেন্ট রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি শহর। কাসপিয়ান সাগরের দক্ষিণপূর্ব উপকূলে নির্মীত এ দেয়ালটি তোলা হয়েছে দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা যায়গ্রায়। এ পাহাড় দুটিকে বলা হয় পৃথিবীর ¯Íন। আলেকজান্ডার নির্মীত এ দেয়ালের উচ্চতা ২০ মিটার এবং এটি ৩ মিটার (১০ ফুট) পুরো। এ দেয়াল ভেদ করে শত্রæদের এগিয়ে আসা অসম্ভব। তাছারা কাসপিয়ান গেটে আলেকজান্ডার রেখেছিলেন নিñিদ্র পাহাড়া। যেন গ্রীকের শত্রæরা দেয়ালের এ পাশে কোনভাবেই আসতে না পারে। কুরআনে রয়েছে যে, ইয়াজুজ মাজুজের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য এ দেয়াল নির্মাণ করা হয়। ইয়াজুজ মাজুজ সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন এ নামে অত্যাচারী শাসক ছিলো। আবার কারো মতে প্রতিকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে এ দুটি শব্দ। এ প্রতীক হতে পারে অত্যাচারী শাসক বা শাসকদের, যারা কাসপিয়ান সাগরের এ উপক‚র দিয়ে আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালাত।
মুসলমান পন্ডিতদের পাশাপাশি পশ্চিমা অনেক পন্ডিতগণও আলেকজান্ডারকে জুলকারণাইন বলেই অভিহীত করেন। কারণ কুরআন এবং বাইবেলে বর্ণিত অনেককিছুর সাথেই সাদৃশ্য রয়েছে বর্তমানে প্রচলিত আলেকজান্ডারের ইতিহাসের। প্রশ্ন উঠতে পারে কুরআনে বর্ণিত জুলকারণাইন ছিলেন সু শাসক। কিন্তু সেই জুলকারণাইনকে কিভাবে আলেকজান্ডার ধরা হবে? কারণ আলেকজান্ডারের ব্যাপারে সুনামের চেয়ে দুর্নামের কথা-ই বেশি প্রচলিত রয়েছে। তাছারা আলেকজান্ডারের আস্তিকতার ব্যাপারে স্বীকৃতি থাকলেও অনেকে মনে করছেন তিনি ছিলেন অগ্নিপূজক। এর সঠিক জবাব হলো পবিত্র কোরআন ব্যতিত আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মগ্রন্থগুলো যদি সময়ের সাথে সাথে মানুষের খেয়াল খুশিমত পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে, তো একজন ব্যক্তি বা শাসকের চরিত্রও বিকৃত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক নয় তাদের দর্শন বিবর্তনের।
হাজার হাজার বছর পর বিতর্ক করে হয়তো দেখা যাবে আলেকজান্ডার আদৌ জুলকারণাইন ছিলেননা। আবার হয়তো আরো গভীর পর্যালোচনা করলে একথাটি দাঁড়িয়ে যাবে আলেকজান্ডার দ্যা গ্র্যাট ছিলেন জুলকারণাইন।

শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০০৯

ঘুমের ছবি তারার বুড়োর








ইলিক ঝিলিক তারার বুড়ো
নীলের চাতাল ফুঁড়ে
জোসনা দিয়ে গা মাখিয়ে
নামলো ভুবন জুড়ে
এখানটাতে ভরলো আলোয়
হলুদ এলো ঘাসে
ঘাস বলো না ঘাস বলো না
সর্ষে দেখো হাসে।
সর্ষেতো নয় হলদে ফুলের
হলদে মাদুর পেতে
আবছা আকাশ গড়লো দেয়াল
তিন সীমানায় যেতে
চার সীমানার তিনটি গেলো
একটি রলো ফাঁকা
ওখানটাতে গাও গেরামের
সবুজ ছবি আঁকা।
কাদার ওপর এক পরতের
রুপোর টলোমলো
আলতু নুয়ে ঝাঁকড়া হিজল
ঘুমে ঢলোঢলো।

এই ছবিটা ঘুমের ছবি
কেউ ধরো না এতে
এর ভাগিদার শুধুই বুড়ো
কেউ চেয়োনা পেতে।

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০০৯

আগুনঝড়

শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ:
বন-বনানীতে ঘেরা ছোট্টশহর মারিসভিলে। বিশ্বের কয়জনই বা চিনতো একে? খোদ অস্ট্রেলিয়াবাসীর অনেকেই জানতোনা দক্ষিণাঞ্চলের ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের এই শহরটিকে। পৃথিবীর অন্যান্য অনেক শহরের মতোই এখানকার বাতাসে ভেসে বেড়াতো জীবণের কলরোল। এর আগে নিভৃত এ জনপদের প্রাণের স্পন্দন কখনো আলোড়ন তুলেনি গোটা পৃথিবীর বাতাসে। কিন্তু হঠাৎ-ই এক ভয়ঙ্কর আগুনঝড় মারিসভিলেকে পরিচিত করে তুললো হতবিহহ্বল বিশ্ববাসীর কাছে। সেখানকার উত্তপ্ত বাতাস পৃথিবীর কানায় কানায় ছড়িয়ে দিলো শহরটির নাম। প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীবাসী পরিচিত হলো জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া এক অন্যরকম মারিসভিলে’র মতো আরো কয়েকটি এলাকার সাথে। মাত্র কদিন আগে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষকে নাড়া দিয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ভিক্টোরিয়ায় সৃস্ট দাবানল। দীর্ঘস্থায়ী সে আগুনঝড় প্রাণের আর্তচিৎকারে ভারি করে তুলেছিলো ভিক্টোরিয়ার বাতাস। মুহুর্তের মাঝেই দাবানলের লেলিহান শিখা গোটা বিশ্ববাসীকে ভাসিয়ে দেয় চোখের জলে।

উষ্ণতা থেকে দাবানল
পৃথিবী সৃস্টির আদি উপকরণ কোনটি, আগুন, নাকি পানি? এ নিয়ে প্রাচীন দার্শনিকদের মাঝে ছিলো তুমুল বিতর্ক। দার্শনিক থেলিসের মতো কেউ কেউ বলেছিলেন যেহেতু পৃথিবীর তিনভাগ জল আর এক ভাগ স্থল, সেহেতু জলই হলো পৃথিবীর আদি উপাদান। আবার দার্শনিক এনাক্সিমেন্ডারের মতো কারো কারো ধারণা ছিলো যেহেতু আগুন বদলে দিতে পারে পৃথিবীর রূপ, সেহেতু আগুন থেকেই পৃথিবীর সৃস্টি। আগুনের কারণেই প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে পৃথিবী। প্রাচীন দার্শনিকদের এসব বিতর্কের সমাপ্তি না ঘটলেও আগুন যে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক শক্তি তা অস্বীকার করার জো নেই। উষ্ণতা থেকেই আগুনের সৃস্টি। কি অদ্ভূত ব্যাপার! অদৃশ্য উষ্ণতাই হঠাৎ দৃশ্যমান হয়ে রূপ নেয় অগ্নিশিখায়! উষ্ণতা বাড়লো, তো শিখা লেলিহান হয়ে উঠলো। অপরদিকে উষ্ণতা কমতে থাকার সাথে সাথে গুটিয়ে যেতে থাকে শিখাগুলোও। ধিকিধিকি জলার পর দপ করে নেই হয়ে যায হঠাৎই। উষ্ণতার এই আকার-নিরাকারের জাদুকরী শক্তি আগুনকেতো প্রকৃতির শক্তিশালী উপাদান হিসাবে গণ্য করা হবেই। ছোট-বড় সকল পরিসরে পানি যেমন আশির্বাদ এবং অভিশাপ দুটোই, আগুনও ঠিক তেমনি।
আগুনের উৎপত্তি কিভাবে হয়? এর জন্য অবশ্যই প্রয়োজন দাহ্য পদার্থ, অক্সিজেন এবং অগ্নুতপাত হওয়ার মতো উষ্ণতা। দাহ্য পদার্থ এবং অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যখন সেখানকার উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় তখনি জ্বলে উঠে আগুন। সেটা কখনো মানুষ ঘটায়, কখনোবা প্রকৃতির নিয়মেই ঘটে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে যে অপ্রতিরোধ্য আগুনের সৃস্টি হয় তাকেই বলে দাবানল। অবারিত দাহ্য পদার্থের ভান্ডার প্রাকৃতিক বনগুলোতেই সাধারণত দাবানলের সৃস্টি হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে তৈরি হওয়া এ আগুন বনের গাছপালা, ঘাস এবং অসহায় জীবজন্তুকে পুড়িয়ে খাক করে দেয়।
যেসব বনাঞ্চলের আবহাওয়া সাধারণত গরম, শুকনো থাকে সেসব অঞ্চলেই দাবানল বেশি হয়ে থাকে। সেদিক থেকে অনাবৃস্টির অস্ট্রেলিয়ার কিছু কিছু এলাকা বছরের যেকোন সময়ই দাবানলের ঝুঁকিতে থাকে। ছোট পরিসরের আগুন অবশ্যই দাবানল নয়। কিন্তু ছোট পরিসর থেকেই অনেক সময় বড় পরিসরে গড়াতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় একই সময়ে একই বনের বিভিন্ন স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে এক হয়ে যায়। আর সে অবস্থাটাই হলো দাবানল।
দাবানলের উৎপত্তি নির্ভর করে জ্বালানির উপস্থিতি, আদ্রতা, বাতাসের গতি এবং বাতাসের কৌণিক গতির উপর। বনের যেসব অঞ্চলের উষ্ণতা আগুন জলে উঠার পর্যায়ে পৌঁছে সেসব অঞ্চলে একই সময়ে বা প্রায় কাছাকাছি সময়ে সৃস্টি হয় স্ফুলিঙ্গের। তারপর সময়ের ব্যবধানে সকল উৎসগুলো একাকার হয়ে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে লেলিহানগুলো। বিপুল পরিমাণ জ্বালানির উপস্থিতিতে শক্তিশালী আগুনের সৃস্টি হয়। ঘন ও বিন্য¯Í জ্বালানির উপস্থিতির চাইতে যথেস্ট জায়গা নিয়ে জ্বালানি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে সেখানে আগুন দ্রæত ছড়ায়। বনে সৃস্ট আগুন একটি উৎসের দাহ্য পদার্থগুলো যখন পুড়িয়ে শেষ করে, তখন শুকনো ডালপালা এবং পাতার মাধ্যমে তা ছড়াতে থাকে। লেলিহানগুলো দূরের দাহ্য পদার্থে ছড়িয়ে যেতে সক্ষম না হলেও তা নিভে যায়না। বরং সহজদাহ্য কিছু ঘাসের মাধ্যমে তা আরো দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এ কারণে দাবানলে জ্বলতে থাকা কোন বনের দিকে দূর থেকে লক্ষ্য করলে মনে হতে পারে আগুন বুঝি লাফিয়ে লাফিয়ে বিস্তার লাভ করছে।
অনেকদিন অনাবৃস্টির কারণে বনের গাছপালার আর্দ্রতা কমে গেলে শুষ্ক ও উত্তপ্ত বায়ু প্রবাহই সূত্রপাত ঘটায় দাবানলের। অবশ্য আগুনের এ চাদরের বিস্মৃতি নির্ভর করে বাতাসের আনুকুল্যতা কিংবা প্রতিক‚লতার উপর। অনুকুল বাতাস আগুনের শিখাকে লাফিয়ে লাফিয়ে নতুন জ্বালানি পুড়াতে সাহায্য করে। জ্বলতে সাহায্য করে অক্সিজেনের জোগান দিয়ে। একটি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হলে তা থেকে অপরস্থানে সে আগুনকে বয়ে নেয়ার মূল দায়িত্ব পালন করে বাতাস। আর সেই সূত্রে আগুনকে সহজে বহন করে নিয়ে যায় সহজদাহ্য ঘাস। তবে আগুন ছড়ানোর চিরচারিত যে রীতি তা অনুযায়ী দাবানলের উৎস থেকে লেলিহানগুলো জিহ্বা বিস্তৃত করে দূরের জ্বালানির উৎসগুলোকে উত্তপ্ত করতে থাকে বিকিরণের মধ্য দিয়ে। আর যখন জ্বালানীগুলো দাহ্য হবার উপযুক্ত হয়, ততক্ষণে লেলিহানগুলোও সেখানে ছড়িয়ে যায় পূর্ণ উষ্ণতা নিয়ে। আগুনের স্বাভাবিক ধর্মের কারণেই দাবানলের বিস্তৃতি উপরের দিকেই বেশি ঘটে।
দাবানলসহ যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগই ইকোসিস্টেমের ক্ষতি করে। কোনো একটি নির্দিস্ট এলাকায় যত জীবিত বা মৃত বস্তু থাকে তারা সবাই ইকোসিস্টেমের উপাদান। দূর্যোগের কারণে প্রকৃতি তার স্বাভাবিকতা হারায়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, কোন কোন ক্ষেত্রে দূর্যোগও কাজ করে আশির্বাদ হিসাবে। দাবানল সেরকম একটি দূর্যোগ। বনে অনেক গাছ রয়েছে যেগুলোর বংশ বৃদ্ধিই হয়না দাবানল না হলে। দেবদারু তেমন একটি বৃক্ষ। দেবদারুর ফলের খোসা এতটাই শক্ত যে ভেতরে থাকা বীজের পক্ষে কোনো দিনই বাইরে আসা সম্ভব নয়। আগুনের তাপে এর শক্ত খোসা গলে গেলেই কেবল বীজের অঙ্কুর এবং বংশবিস্তার সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়ার সেই আগুন ঝড়
প্রাকৃতিকভাবেই হোক বা মনুষ্য সৃস্টই হোক ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের সেই আগুন ঝড়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার জন্য নেমে আসে এক অভিশাপ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এ আগুনঝড়ে সেখানকার উত্তপ্ত বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল প্রাণের আর্তচিৎকার। আবার একই সময়ে ভিন্ন চিত্র ছিল দেশটির কুই›সল্যান্ড এলাকায়। সেখানে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছিল বন্যা। দুই অংশে দুই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেন নেমে এসেছিলো নরকের অভিশাপ।
তিনটি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ৫০টিরও বেশি স্থানে একইসাথে চলতে থাকে অপ্রতিরোধ্য আগুনের ধ্বংসযজ্ঞ। প্রচন্ড বাতাসের উস্কানিতে ক্রমেই পরিধি বৃদ্ধি করতে থাকে দাবানলের লেলিহান জিভ। উত্তাপের ঢেউ পুড়াতে থাকে সংরক্ষিত বনভ‚মি, ন্যাশনাল পার্ক, খামার এলাকা এবং লোকালয়সহ ৪৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। যার ফলশ্রুতিতে সেখানকার তাপপ্রবাহ ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে গড়ে তোলে নতুন রেকর্ড। নিহত হয় ১৭৩ জন, আহত হয় ৬০০ জন, ছাই হয়ে যায় লোকালয়ের আশ্রয়। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে তিনটি অঙ্গরাজ্যে। ধ্বংস হয়ে যায় কয়েকটি শহর ও ২,০২৯ টি বাড়িঘর। গৃহহারা হয় কয়েক হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হয় ভিক্টোরিয়া রাজ্য। নিহতদের সবাই সেখানকার বাসিন্দা। সেখানকার ৩০ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল, কৃষিজমি ও বেশ কয়েকটি শহর থেকেই প্রথম উৎপত্তি হয় আগুনঝড়ের। আগুনের লেলিহান-শিখা ছিলো চারতলা ভবনেরও উঁচুতে। বিভীষিকাময় সে মুহুর্তে গোটা আকাশ ঢেকে যায় ছাইয়ে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নেয় কমিউনিটি হল, স্কুল ও অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু দিকবিদিক ছুটে পালাতে ব্যস্ত বনের পশুপাখিরা পায়নি সে ধরনের কোন আশ্রয়ের খোঁজ। এদেরকে মুহুর্তেই ছাই হয়ে যেতে হয় আগুন ঝড়ের অভিশাপে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার ক্যাঙ্গারুর নিথর দেহ। ভয়াবহতম এ দাবানলে মারা যায় লাখ লাখ প্রাণী।
হাজার হাজার দমকল কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক আপ্রাণ চেস্টা করে যায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। সহায়তার জন্য ছুটে আসে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনী। কিন্তু প্রতিরোধ করা যায়নি প্রকৃতির ভয়ঙ্কর আক্রোশকে। অস্ট্রেলিয়ানরা এ দাবানলকে ‘স্থল সুনামি’ বলেও অভিহিত করছেন। দাবানল পরবর্তী পরিস্থিতিও দৃশ্যত এতটাই ভয়ঙ্কর ছিলো যে অ¯েট্রলিয়ার পুলিশ ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের মারিসভিলে শহরটি বন্ধ করে দেয়। বেঁচে যাওয়া শহরবাসী তাদের বাড়িতে ফেরার জন্য শহরের চারদিকে ভিড় করলে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে ধ্বংসস্ত‚পের সে বীভৎস পরিস্থিতি লোকজনকে আরো আতঙ্কিত করে দিতে পারে বলে শহর ছেড়ে যারা চলে গিয়েছিল তাদেরকে পরমুহুর্তেই ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
অপরদিকে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার উপর নেমে আসে আরেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বণ্যা। বিজ্ঞানীরা বলেন, বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে এ দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। অ¯েট্রলিয়ার শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু বিজ্ঞানী কেভিন হেনেসি বলেন, ১৯৫০ সালের পর থেকে অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা যে অব্যাহত রয়েছে তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা বলতে পারি, ভিক্টোরিয়ায় যে দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, এর পেছনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। আর সেটি হয়েছে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে।’ দেশের উত্তরে প্রবল বর্ষণজনিত সে বণ্যা এতটাই ভয়াবহ ছিলো যে, নদ-নদীগুলো প্লাবিত হয়ে কুমির ঢুকে পড়ে শহরে।
অস্ট্রেলিয়ায় সৃস্ট ভয়ঙ্কর এ দাবানল এবং বণ্যাকে প্রাকৃতিক দূর্যোগ হিসাবে দেখা হলেও এ নিয়ে সৃস্টি হয় কিছু বিতর্কেরও। উদ্দেশ্যম‚লকভাবে বনের শুকনো গাছপালায় আগুন লাগানো হয় বলেও সন্দেহ করে পুলিশ। ইসলামি জঙ্গিরা ‘জঙ্গল জিহাদ’ হিসেবে বনে আগুন লাগিয়েছে বলে কোনো কোনো মহল থেকে তোলা হয় অভিযোগ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ তা একেবারেই নাকচ করে দেয়। আবার ১৩ ফেব্রুয়ারি আগুন লাগিয়ে দাবানল সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে তাকে সন্দেহ করা হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দাবানল সৃস্টি করার পেছনে কাউকে দোষি সাব্যস্ত করা যায়নি। তবে একইসাথে আগুন-পানির এ তান্ডবকে অস্ট্রিলিয়ার জন্য অভিশাপ হিসাবে দেখছেন অনেকেই।

গ্রীসে সৃস্ট দাবানল
অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্র্রতি যে দাবানল হয়ে গেলো, এর প্রায় দুই বছর আগে গ্রীসে সৃস্ট দাবানলটিও হতবাক করে দেয় বিশ্বকে। ২০০৭ সালে সৃস্ট এ দাবানলটি ছিলো মূলত চারটি পর্যায়ে। গ্রীসের বেশির ভাগ এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়েছিলো ভয়ঙ্কর আগুনের লেলিহান। গ্রীসের পিলোপোনীস, আট্টিকা এবং ইভিয়া এলাকায় ২৮জুন থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান এ ভয়ঙ্কর দাবানলে মোট মৃতের সংখ্যা ৮৪ জন। এদের মাঝে জুনে ৯জন, জুলাই মাসে ৫ জন, আগস্টে ৬৭ জন এবং সেপ্টেম্বরে মারা যায় ৩জন। অপ্রতিরোধ্য আগুন ৬৭০ একর বা ২,৭১১ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিলো। সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয় আগস্টের শেষ সপ্তাহের দাবানলে। চারদিনব্যাপী স্থায়ী হওয়া এ দাবানল বিশাল আকারে এক সর্বগ্রাসী আগুনের চাদর হয়ে রাজধানী এথেন্সের উত্তরের ইভিয়া দ্বীপ থেকে শুরু করে দক্ষিণে পিলোপোনীস পর্যন্ত ঘিরে ফেলে। সেই সাথে শুষ্ক ও উত্তপ্ত বায়ু প্রবাহের কারণে বিভিন্ন স্থানে থেকে থেকে জ্বলতে থাকে আগুন।
গ্রীসে এ ভয়ঙ্কর দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ থেকে অগ্নি নির্বাপক বিমান এসে প্রচেষ্টা চালায়। প্রধানমন্ত্রী কস্টাস কারামানলিস দেশে জররী অবস্থার ঘোষণা দেন। সেনাবাহিনী যুদ্ধ-পদক্ষেপে কাজ করে। গ্রীক পুলিস এটি পরিকল্পি হতে পারে বলেও ধারণা করে। সেজন্য তারা ১২ ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে। ১ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করে দাবানল সৃষ্টিকারীর সন্ধান পাবার জন্য। অনেকেই অনুমান করেন এ-দাবানল একটি সংগঠিত কান্ড যার উদ্দেশ্য ছিলো গ্রীসের বন-সংরক্ষণ আইনে পরিবর্তন আনা।
আরো ভয়ঙ্কর খবর হলো, গ্রীসের ইতিহাস-খ্যাত অলিম্পিকের আদি স্টেডিয়ামে অবস্থিত যাদুঘরের আঙ্গিনাকে ঝলসে দেয় এর লেলিহান শিখা। বহু কসরত করে গ্রীসের মহত্তম এ প্রতœতাত্তি¡ক সংগ্রহ ও স্টেডিয়ামকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়।

বয়ে যাওয়া উত্তাপ
মানুষ আর গাছের জীবনপ্রণালী পরস্পর নির্ভরশীল। মানুষ অক্সিজেন নেয় গাছ থেকে আর গাছ নেই কার্বন ডাই অক্সাইড মানুষের কাছ থেকে। যা মানুষের জন্য বিষ, তাই আপন প্রয়োজনে নিজের মধ্যে টেনে নেয় গাছ। প্রকৃতির এই সুন্দর এবং গোছালো শৃঙ্খলার কারণেই টিকে আছে জীব ও জগতের ভারসাম্য। মানুষ যেমন জন্মায় এবং মৃত্যুবরণ করে। গাছেরও তেমন রয়েছে জন্ম এবং মৃত্যু। মানুষ, গাছ এবং সৃস্টির অন্যান্য অনুষঙ্গগুলোর মাঝে পরস্পর নিরবচ্ছিন্ন বন্ধনের মাধ্যমেই পর্যায়ক্রমে এগিয়ে চলেছে পৃথিবী। এগিয়ে চলার এ পথে প্রভাব ফেলছে কেবল সময়। সময়ই বদলে দিচ্ছে প্রকৃতির রূপ। দাবানল সময়েরই একটি অনুষঙ্গমাত্র। যেমনভাবে দাবানল মাইলকে মাইল বনভ‚মিকে পুরিয়ে খাক করে দিতে পারে, তেমনভাবে আবার প্রাকৃতিক নিয়মেই আবার জেগে উঠে সবুজ বন। পৃথিবীর গহীন বনভ‚মির এমন অনেক অঞ্চল রয়েছে যেগুলোতে মানুষের পায়ের স্পর্শ কখনো পরেনি। সেগুলোতেও সৃস্টির আদিকাল থেকেই বয়ে আসছে আগুনঝড়। এদের কোনটির উত্তাপ স্পর্শই করতে পারেনি সভ্য জগতকে, আবার কোনটির খবর বাতাসে ভেসে এসেছে মানুষের কানে। বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন বনভ‚মিতে বয়ে যাওয়া কিছু উত্তাপে উত্তপ্ত হয়েছে বিশ্ববাসী।

উত্তর আমেরিকা: উত্তর আমেরিকার আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকিপ্রবণ। সেখানকার সৃস্ট দাবানল সম্পর্কে খোঁজ নিতে গেলে ১৮২৫ সালে সৃস্ট মীরামিকি দাবানল থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৫৮টি দাবানলের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। উত্তর আমেরিকার আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বলে এর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘনই দাবানলের সৃস্টি হয়। ২০০৮ সালের ভেতরেই সেখানকার বনভ‚মিতে ঘটে যায় তিন তিনটি আগুন ঝড়ের ঘটনা। এগুলো হলো ট্রিগু দাবানল, ইভান্স রোড দাবানল এবং ক্যালিফোর্নিয়া দাবানল। এর আগের বছর ২০০৭ সালে উত্তর আমেরিকায় বয়ে যায় সাত সাতটি আগুন ঝড়।

অস্ট্রেলিয়া: ১৯৩৯ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ১২টি আলোচিত দাবানলের সৃস্টি হয়। ১৯৩৯ সালের ১৩ জানুয়ারি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ৪,৯৪২ একর এলাকাজুড়ে সৃস্ট দাবানলে প্রাণহানী ঘটে ৭৮ জনের। দিনটি শুক্রবার ছিলো বলে এটি বø্যাক ফ্রাইডে নামে পরিচিত। অবশ্যই একই কারণে ১৯৫৫ সালের দাবানলটি বø্যাক সানডে, ২০০১-২০০২ সালের দাবানল বø্যাক ক্রিস্টমাস এবং ২০০৫ সালে সৃস্ট দাবানল বø্যাক টুয়েসডে দাবানল হিসাবে পরিচিত।
১৯৬১ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, ১৯৬৭ সালে তাসমানিয়ায়া, ১৯৮০ এবং ১৯৮৩ সারে ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় সৃস্ট দাবানলও ছিলো অস্ট্রেলিয়ার জন্য অভিশাপ স্বরূপ। ১৯৯৪ সালে নিউ সাউথ ওয়ালেসে সৃস্ট আগুনে বিরান হয়ে হয়ে ৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। অস্ট্রেলিয়ার জন্য আলোচিত ও ভয়ঙ্কর আরো দুটি দাবানল হলো ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারিতে সৃস্ট ক্যানবেরা এবং ২০০৬ সালের মাউন্ট লুব্রা দাবানল।

ইউরোপ: ইউরোপের মাঝে দাবানল সবচেয়ে বেশি সৃস্টি হয়েছে গ্রীসেই। ১৯৯৫ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে গ্রীসের পেনটারী পাহাড়ি এলাকায় দাবানলের সৃস্টি হয়। যার স্থায়িত্ব ছিলো ৭ দিন। গ্রীসে ১৯৯৮, ২০০০ এবং ২০০৫ সালে সৃস্টি হয় আরো তিনটি দাবানলের।
১৯৭৫ সালে জার্মানীতে ৭৪.১৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৃস্ট আগুনে পাঁচজন অগ্নিনির্বঅপক কর্মী মারা যায়। ২০০ সালে ইতালী এবং ফ্যান্সের কিছু অংশের বনভ‚মিতে সৃস্টি হয়েছিলো আগুনের। ১৯৯২ সালের ২৬ আগস্ট পোল্যান্ডে এবং ২০০৩ সালের আগস্টে পর্তুগালের বনভ‚মিতে সৃস্টি হয় ভয়ঙ্কর আগুনঝড়ের। রাশিয়া এবং সুভিয়েত ইউনিয়নে ১৯২১ সাল এবং ১৯৩৫ সালের পর আর কোন উলেøখযোগ্য দাবানলের সৃস্টি হয়নি। ২০০৫ সালে স্পেনের ১৩২ বর্গ কিলোমিটার বনভ‚মিতে সৃস্ট দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ১১ জন অগ্নিনির্বঅপক কর্মী প্রাণ হারায়।

দক্ষিণ আমেরিকা: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়াতে ২০০২ সালে সৃস্টি হয়েছিলো দাবানলের

এশিয়া: এশিয়ার ভিতর দাবানলের সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হলো ইন্দোনেশিয়ায়। সেখানে দাবানলের সৃস্টি হওয়া এখন বার্ষিক রীতিতে পরিণত হওয়ছে। তবে সেখানে সৃস্টি হওয়া কয়েকবারের দাবানরে কথা বিশেষভাবে উলেøখ করা যায়। ১৯৮২-৮৩ সালে ক্যালিমানটান এবং পূর্ব সুমাত্রার ৩৬,০০০ বর্গকিলোমিটার বনভ‚মি জুড়ে আগুন লেগে যায়। এই একই এলাকায় পরবর্তীতে আরো দাবানলের সৃস্টি হয় ১৯৮৭, ১৯৯৭, ১৯৯৯ এবং ২০০৫ সালে। তবে ক্যালিমানটান এবং সুমাত্রাতে ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবছরই ছোট খাট দাবানলের ঘটনা ঘটে আসছে। এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে উলেøখ করার মতো দাবানল প্রবণ অন্য কোন দেশ নেই। তবে ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল জাপানের ৩.৪ বর্গকিলোমিটার বনভ‚মিতে সৃস্ট আগুনের কথা উলেøখ করা যায়। যার স্থায়িত্ব ছিলো ১ দিন এবং এতে প্রাণ হারায় ১৮ জন অগ্নিনির্বঅপক কর্মী।

বিষাদের মূর্ছনা
কার্য কারণ তত্তে¡র ভিত্তিতে যদি বনভ‚মিতে সৃস্ট দাবানলের কারণ খোঁজা হয়, তবে সহজেই চোখে ভেসে উঠে এগুলো। যেমন- আগুনের বিস্তৃতির কারণে দাবানলের সৃস্টি। জ্বালানির উপস্থিতি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আগুনের সৃস্টি। কার্য কারণ তত্ত¡ অনুযায়ী সবই যথাযথভাবে মেলানো যায়। কিন্তু তবুও মাঝখানে থেকে যায় জগতের অপার এক রহস্য।
ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকা তাপ বনভ‚মির জ্বালানীর পানিগুলোকে ধীরে ধীরে শুকিয়ে প্রজ্জ্বলনের উপযোগী করে তোলার পর একটি নির্দিস্ট পরিমাণে তাপমাত্রা পৌঁছলে হঠাৎই সৃস্টি হয় স্ফ‚লিঙ্গের। এ স্ফ‚লিঙ্গের মাঝেই নিহীত যত রহস্য। হঠাৎই কিভাবে আকার পায় নিরাকার উষ্ণতা! এ পরিবর্তনকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন প্রত্যÿবাদীরা? অতীন্দ্রীয় কোন সত্ত¡াই কি তাহলে এই পরিবর্তনের কারণ? যে সত্ত¡ার মাঝে জীব ও জগতের সকল রহস্যই লুক্কায়িত?
এমন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো জগতের অসংখ্য উপাদানের নিগূঢ় রহস্যের তরঙ্গে কখনো ভেসে বেড়ালে যে সত্ত্বার কাছে গিয়ে আছড়ে পরতে হয়, তিনিই পরম সত্তা। সে সত্ত্বা থেকেই আগুন-পানি কখনো এসেছে মানুষের জন্য আশীর্বাদ হিসাবে আবার কখনোবা অভিশাপ নিয়ে। পরমসত্ত্বার সেই অভিশাপ আবিভর্‚ত হয়েছে নীতি-নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত জাতির জন্য, সৃস্টি হয়েছে গোটা পৃথিবীর পরবর্তী প্রজন্মের সচেতনার জন্য ভয়ঙ্কর কিছু নজির। নূহ্-এর প্লাবন থেকে শুরু করে পতঙ্গ বৃস্টি, রক্তবৃষ্টির মতো অসংখ্য অভিশাপের অনুভ‚তি ইতিহাসের পাতা বেয়ে নাড়া দিয়ে গেছে আমাদের। আমাদেরকে নাড়া দিয়ে গেছে সুনামির মতো ভয়ঙ্কর এক দূর্যোগ। বিশ্বের চোখের সামনে দিয়েই মানুষকে তুলোর মতো ভাসিয়ে নিতে পেরেছে যে সুনামী, গণগণে তাপে বনভ‚মিকে অঙ্গার করে দিতে পেরেছে যে দাবানল, পরম সত্ত¡ার সেই শক্তিগুলোর পক্ষে নিমিষেই বিরাণ করে দেয়া সম্ভব পুরো সভ্যতাকে। যেমনভাবে আগ্নেয়গিরীর উদগীরণের নিচে চাপা পরেছিলো সভ্য নগরী পম্পেই। গলিত লাভার চাদরে ঢাকা পম্পেই’র বাতাসে এখনো রয়ে গেছে সেই বিশাদের মূর্ছনা।

সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০০৯

পেছনে রইলো


পেছনে রইলো বাজার ঘাট

রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০০৯

এবার ভাসা যাক

শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০০৯

যে স্বপ্নে বিভোর থাকি


যে স্বপ্নে বিভোর থাকি প্রতিনিয়ত, তার কথা নাহয় না-ই বল্লাম।

শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০০৯

ইহুদীবান্ধব বৃক্ষ জারকাদ

শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
আকাশের চোখে পৃথিবীর রং কি? শুধুইকি নীল? না বিস্তৃত নীল জলরাশির মাঝে রয়েছে সবুজের ছোয়াও। এ সবুজের ছায়ায়ই যত উর্বরতা। এখানে প্রাণের স্পন্দন আর উচ্ছলতা। সবুজ অরণ্য পরম মমতায় আগলে রাখে মানুষকে। বেঁচে থাকার জন্য বিষুদ্ধ বায়ু সরবরাহ করে অনন্তকাল ধরে নিজের মধ্যে টেনে নেয় বিষ। মানুষ আর গাছের অবস্থান পাশাপাশি। পরস্পরের বেঁচে থাকা পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যম। ঝিরঝির বাতাসে পৃথিবীর সব গাছেরা কথা বলে একই সমীরণে। তবুও এদের মাঝে রয়েছে পার্থক্য। কোনটি ফল দেয়, কোনটি দেয় ফুল, কোনটি ফল ফুল দুটোই দেয়, আবার কোন গাছ এর কিছুই দেয়না। নানা আকার, বর্ণ এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের গাছের সংখ্যা অগুণতি। মানব বসতি গাছকে নিয়েই। দৈনন্দিন জীবণের কাজ, আবেগ সব-ই গাছের সাথে সম্পৃক্ত। এ কারণে গাছেরাও নিজেদেরকে ঢেলে দিয়েছে মানুষের কাছে।
মানুষও পর্যবেক্ষণ করে চি‎ি‎হ্নত করতে পেরেছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের গাছকে। আর তাই গাছ সম্পর্কে রয়েছে নানা গল্প ও কিংবদন্তী। গাছ নিয়ে রয়েছে কবিতা ও গাণ। রয়েছে কালজয়ি সাহিত্য। মানুষের উপকারের জন্য যেমন গাছ, তেমনি কিছু গাছ মানুষের অপকারও করে। এমনকি আস্ত মানুষকে ফুটন্ত ফুলের ভেতর হজম করে ফেলার মতো গাছও পৃথিবীতেই বর্তমান। আমাজানের কিছু ভয়ঙ্করি লতানো গাছ পেচিয়ে হার গুড়ো করে দেয় মানুষের। আবার এমন কিছু গাছ রয়েছে যেগুলোর সাথে ধর্মীয় আবেগ জড়িত। গাছ রচনা করেছে ইতিহাস। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থেও বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে কিছু গাছের কথা। কিছু গাছ সম্বন্ধে বিচিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে। তেমন একটি গাছের নাম জারকাদ। এটি ইহুদীবান্ধব গাছ। জারকাদ এবং ইহুদীদের সম্পর্ক নিয়ে রয়েছে হাদীসে। এমন একটি হাদীস হচ্ছে
“ মুসলমান এবং ইহুদীদের মাঝে যুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিচারের দিন আসবেনা। সে সময় ইহুদীরা পাথর এবং গাছে নিজেদেরকে আড়াল করবে, তখন পাথর এবং গাছেরা বলবে ‘হে মুসলমানবৃন্দ, হে আল্লাহর বান্দা, আমার আড়ালে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। তাকে হত্যা কর। একমাত্র জারকাদ গাছ এমন বলবেনা। কারণ এটি অন্যতম ইহুদীবান্ধব গাছ। ” (সহীহ মুসলিম, বই ০৪১, হাদিস নং ৬৯৮৫)
ইসরাইলীরা মুসলমানদেরকে সবচেয়ে শত্রæ হিসেবে গণ্য করে। পৃথিবী থেকে মুসলমানদের নাম-নিশানা মুছে ফেলার জন্য তারা মরিয়া। কিন্তু তারাই আবার রাসুল (সাঃ) এর হাদিসকে বিশ্বাস করে। এ বিশ্বাসের কারণেই সমগ্র ইসরাইলে তারা ব্যাপকভাবে জারকাদ লাগানোর কাজ শুরু করেছে। গড়ে তুলছে জারকাদ বন। অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে জারকাদ বৃক্ষ তাদের সাহায্য করবে।

জারকাদ এর বিস্তারিত
জারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ। জারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn। Boxএর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। বক্সথর্ন নাইটশেড পরিবারের অন্তর্ভূক্ত। উষ্ণ ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে এর ৯০টির মতো প্রজাতি রয়েছে। এগুলোর মাঝে ২০ প্রজাতি উত্তর আমেরিকায়, ৩০ প্রজাতি দক্ষিণ আমেরিকায়, ৩০ প্রজাতি আফ্রিকায়, ১০ প্রজাতি রয়েছে ইউরোপ এবং এশিয়ায়। তাছারা অস্ট্রেলিয়াতেও রয়েছে একটি প্রজাতি। লবণাক্ত পরিবেশ বক্সথর্নের জন্য উপযোগী। ইসরাইল ভ‚মধ্যসাগরের উপক‚লে বলে সেখানে লবণাক্ততা রয়েছে। বিষ্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে ইসরাইলের সীমান্তজুড়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই জারকাদ বৃক্ষ রোপন করা হচ্ছে। এই বৃক্ষ লাগানোর তাৎপর্যতো এটাই যে ইহুদীদের নিরাপত্তা দেবে এই বক্সথর্ন বা জারকাদ।
বারোমাস ফলদানকারী কাঁটাওয়ালা এসব ঝোঁপ প্রতিক‚ল পরিবেশেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। প্রতি বছর পুরনো পাতা ঝরে নতুন করে পাতা গজায়। সাধারণত জারকাদ বা বক্সথর্নের উচ্চতা হয় ১-৮ সেমি। বক্সথর্ন ফুল ফল দুটোই দেয়। কিছু ফুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে আবার কিছু থোকায় থোকায় শোভা পায়। প্রতিটি ফুলের ব্যাস ৬-২৫ মিমি। ফুল থেকে লাল, হলুদ, কমলা, রক্তবর্ণ অথবা কাল রংয়ের ফল হয়। ফলগুলো বেশ মাংসল এবং খাবার উপযোগী। প্রথম দিকে মিষ্টি স্বাদ হলেও শেষ দিকে কিছুটা তেঁতু স্বাদ অনুভ‚ত হয়।
অধিকাংশ প্রজাতির বক্সথর্ন কোসেক্সুয়াল। অর্থাৎ এগুলোর পরাগায়নের জন্য ২য় কোন ফুলের প্রয়োজন হয়না। একটি ফুলেই পুরুষ এবং স্ত্রীর বৈশিষ্ট বিদ্যমান। মরু এলাকায় এ ধরনের কাঁটা ঝুপ হয় বলে এগুলোর ফল নেকড়েদের সুস্বাদু খাবার এ কারণে জারকাদকে বলা হয় উলফ বেরি। তাছারা একে ডেজার্ট থর্ন, ক্রিস্টমাস বেরী, মেট্রিমনি বাইন নামেও ডাকা হয়।
চীন এবং কোরিয়ায় এগুলো থেকে বিভিন্ন ঔষধ, সুপ, জুস এবং এলকুহলিক উপাদান তৈরি হয়। চীনাদের কাছে এগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ঔষধী গাছ। তারা জারকাদের ফল সিদ্ধ করে এগুলো থেকে বিভিন্ন উপাদেয় খাবার তৈরি করে।

ট্রি সার্টিফিকেট



JNF Tree Certificate

ইসরাইলে ইহুদীদের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার জন্য একটি তহবিল রয়েছে। যেটির নাম ‘জিউস ন্যাশনাল ফান্ড’। এই তহবিলের একটি ওয়েবসাইটে ইহুদীদের জন্য দান করার অনুরোধ রয়েছে। ইসরাইলের মাটিকে সবুজ করে তুলতে বিশ্ববাসির কাছে গাছ আহ্বান করা হয়েছে সেখানে। একটি গাছ লাগানোর জন্য যে খরচ হয়, এর সমপরিমাণ কেউ দান করলে তাকে একটি ট্রি সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এ সার্টিফিকেটটি ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্বের স্মারক। জিউস ন্যাশনাল ফান্ড এর ওয়েবসাইটে কোন গাছের প্রতি তাদের বিশেষ আগ্রহ, সেটা সরাসারি উলেøখ নেই। তবে স¤প্রতি ইসরাইলের পাহাড়ে পরিকল্পিত জারকাদ বন তৈরি হওয়ায় জারকাদের দিকে তাদের দুর্বলতাটাই স্পস্ট হযে উঠে।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক মুসলমানের সরাসরি স¤পৃক্ততা নেই কোরআনের সাথে। কোরআনকে তারা ধর্মীয় গ্রন্থ হিসেবে মেনে নিলেও পবিত্র এ গ্রন্থটিতে কি বলা হয়েছে, মানবজাতির জন্য রয়েছে কি দিক নির্দেশনা, তা খুঁজে দেখার প্রয়োজন মনে করেনা। অপরদিকে ইহুদীরা মুহাম্মদ (সাঃ), পবিত্র কোরআন ও মুসলমানদের স্বীকার করেনা এবং এ ধর্মকে ভ্রান্ত বলে প্রচার করে। কিন্তু কোরআন ও হাদীসকে এরা অধ্যয়ন করে মুসলমানদের চেয়ে বেশি গুরুত্বের সাথে। শুধু তাই নয় এসবের অনেককিছু নিয়ে তাদের গবেষনা রয়েছে এবং এ গবেষনালব্ধ জ্ঞান থেকে তারা উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করে। ইতিহাসের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া এ জাতিটি নতুন নতুন চমক দেখিয়ে তাক লাগায় বিশ্বকে।

প্রাচীরের অন্তরালে
The Western Wall, Jerusalem, Israel

... been the wall separating Israel ...
Wall Separating Israel
Israel wall Roadmap
ইহুদীদৈরকে বলা হয় অভিশপ্ত জাতি। এরা প্রতারণা ও চাতুর্যতায় পরিপক্ক। পবিত্র কোরআনে রয়েছে
“(মুসলমানগণ!) আসলে তাদের অন্তরে আলøাহ্র চেয়ে তোমরাই বেশি ভয়ের কারণ। কেননা তারা এক নির্বোধ স¤প্রদায়। ফলে আলøাহকে ভয় না ক’রে তোমাদেরকে বেশি ভয় করে।
এরা সকলে একযোগে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবেনা। এরা যুদ্ধ করবে কেবল সুরক্ষিত শহরে অভ্যন্তরে বা দুর্গ প্রাচীরের অন্তরালে থেকে। তবে, এরা যখন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে তখন সে-যুদ্ধ হয় প্রচন্ড। তুমি মনে কর ওরা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু ওদের মনের মিল নেই। এর কারণ এই যে, ওরা এক নির্বোধ স¤প্রদায়।” (সুরা হাশর ১৪-১৫)
বর্তমানে কোরআনের এই বাণিকেও ওরা প্রতীয়মান করছে সত্য হিসেবে। ইহুদীরা গোটা ইসরাইল সীমান্ত বেস্টনী দিচ্ছে এক সুরক্ষিত প্রাচীর তুলে।
নির্মীয়মান এ প্রাচীর ৬৮০ কিমি লম্বা। প্রাচীরের একেক জায়গায় একেকরকম বৈশিষ্ট এবং উচ্চতা। তবে কঠিন কনক্রিটের এ দেয়ালের উচ্চতা অধিকাংশ এলাকায় ৮ মিটার। উচ্চতার দিক দিয়ে এটি একসময়কার জার্মানীকে বিভক্তকারী বার্লিন প্রাচীরের দ্বীগুণ। প্রাচীরের ৩০০ মিটার পর পর ইহুদীরা নির্মাণ করেছে সামরিক পর্যবেÿণ টাওয়ার। আবার কোথাও কোথাও সুরক্ষিত কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। কমপ্লেক্স এর ভেতরে মটির নিচের গভীরতা ৪ মিটার। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বৈদ্যুতিক তার, মোশন সেন্সর এবং সেনাপ্রহরার পথ রাখা হয়েছে। একসময় হয়তো এ প্রাচীরের ভেতরই বন্দী অবস্থায় থেকে তাদের লরতে হবে শান্তিকামী মানুষের সাথে। তারা কেবল নিরাপত্তা দেয়াল তুলেই ক্ষান্ত নয়। বরং সেই দেয়ালের আশপাশে লাগাচ্ছে জারকাদ বৃক্ষ।

ইহুদীদের আদি ইতিহাস


বর্তমানে ইসরাইল নামক রাষ্ট্র গঠন করে গোটা বিশ্ব নিয়ন্ত্রন করছে ইহুদীরা। স¤প্রতি তারা তাদের রাষ্ট্রের ষাট বছর উদযাপন করল মহা ধুমধামে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এদের এখন রয়েছে বিরাট আধিপত্য। এদের কথায় উঠবস করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। এদেরই কারণে জ্বলছে ফিলি¯িÍন। আর সে উত্তাপ ছড়িয়ে গেছে পৃথিবীর কানায় কানায়।
মানবেতর যুদ্ধ বাঁধানোর হুতা হিসেবে ইহুদীদের গলায় এখন ঝুলে আছে ‘ওয়ারস্ট ব্রান্ড’ এর মত লজ্জাজনক তকমা। অতীতে এদের প্রতি আলøাহর অনুগ্রহ থাকা সত্তেও এরা সীমালংঘন করেছে। সে ধারাবাহিকতা এখনো অব্যহত রয়েছে।
খুব সম্ভবত ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে হিব্রæ ভাষায় কথা বলা জাতি এবং দক্ষিণ সারবিয়রা সিরিয়ার সিনাই উপত্যকা থেকে ক্যরাভিয়ান মরুভ‚মির পথ ধরে ছড়িয়ে যায়। স্থায়ী আবাসহীন এ জাতির প্রথম বাস ছিল সিনাই উপত্যকায়। সিনাই থেকে মেসুপটেমিয়ার সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায় তারা। এরপর সেখানে প্রভাব বিস্তার করে ‘সারগান’ নামক একজনের নেতৃত্বে রাজ্যগঠন করে। সে রাজ্যের রাজধানী ছিল আকাদ। সেখান থেকেই মূলত এদের ইতহাসের শুরু। ধীরৈ ধীরে তাদের প্রতাপ বারতে থাকে মধ্যপ্রাচ্যে। সিনাই থেকে আগতদেরকে দেখে আরো কিছু জাতিও মেসুপটেমিয়ায় চলে আসে।
ধারণা করা হয় আব্রাহাম, তথা ইব্রাহিমের (আ.) সময়কাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ সালের দিকে। ইতিহাসের আদি উৎস থেকেই এই জাতির স্থায়ী কোন আবাস নেই। এ কারণেই হয়তো বাইবেলের পুরাতন নিয়মে ‘সৃস্টিতত্ত¡’তে ইব্রাহীমকে (আ.) পরিভ্রমণকারী জাতির নেতা বলা হয়েছে।
হযরাত ইব্রাহীম (আ.) এর পরবর্তী পুরুষ ছিলেন ইয়াকুব (আ.)। অন্য পরিভাষায় জেকব। ইয়াকুব বা জেকবের অপর নাম ছিল ইসরাইল। সেই ইসরাইল নাম থেকেই এই জাতির নাম হয়েছে বনি ইসরাইল। অর্থাৎ ইসরাইলের বংশধর। বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের নামও ইসরাইল।
জেকবের ১২ জন সন্তানের একজনের নাম ছিল হাবিরু। কেউ কেউ মনে করেন সেই হাবিরুরর নাম থেকেই হিব্রæ নামের উৎপত্তি।
বনি ইসরাইল-এ মুসা (আ.) এসেছিলেন নবী হিসেবে। এদের নবী মুসা (আ.)। তাঁর পরবর্তী নবী ইসা (আ.) ও মুহাম্মদ (সা.) কে ইহুদীরা নবী হিসেবে মেনে নেয়নি।

কোরআন, বাইবেল এবং ইহুদী

পবিত্র কোরানে রয়েছে “মুসা তার স¤প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার স¤প্রদায়! তোমরা স্মরণ করো আলøাহ্র অনুগ্রহ; তিনি তোমাদের মধ্য থেকে নবি করেছিলেন, তোমাদেরকে রাজ্যের অধিপতি করেছিলেন ও বিশ্বে যা কাউকেই দেন নি তা তোমাদেরকে দিয়েছিলেন। হে আমার স¤প্রদায়! আল্লাহ্ তোমাদের জন্য যে-পবিত্র ভ‚মি নির্দিষ্ট করেছেন সেখানে প্রবেশ করো আর পিছু হোটো না। হটলে, তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।’
তারা বলল, ‘হে মুসা! সেখানে এক দুর্দান্ত স¤প্রদায় রয়েছে, আর তারা সেখান থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে প্রবেশই করব না। তারা সেখান থেকে বের হয়ে গেলে আমরা প্রবেবশ করব।’
যারা ভয় করেছিল তাদের মধ্যে দুজন, যাদের ওপর আলøাহ্ অনুগ্রহ করেছিলেন, তারা বলল, ‘তোমরা প্রবেশদ্বারে তাদের মোকাবিলা করো। প্রবেশ করতে পারলেই তোমাদের জয় হবে। আর তোমরা বিশ্বাসী হয়ে আ্লাহ্র ওপরই নির্ভর করো।
তারা বলল, ‘হে মুসা! তারা যতদিন সেখানে থাকবে ততদিন আমরা সেখানে প্রবেশ করবই না। সুতরাং তুমি ও তোমার প্রতিপালক যাও ও গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই ব’সে থাকব।’
সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার ও আমার ভাই ছাড়া অন্য কারও ওপর আমার কর্তৃত্ব নেই: সুতরাং তুমি আমাদের ও সত্যত্যাগী স¤প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা ক’রে দাও।’
আলøাহ্ বললেন, ‘তবে এ চলিøশ বছর তাদের জন্য নিষিদ্ধ রইল, তারা পৃথিবীতে উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াবে। সুতরাং তুমি সত্যত্যাগী স¤প্রদায়ের জন্য দুঃখ কোরো না।” (মায়িদা ২০-২৬)।
বাইবেলের পুরাতন নিয়মে মুসা (আঃ) কে প্রদত্ত ঈশ্বরের কিছু বাণীর কথা রয়েছে। সেখানে ইহুদীদের ভবিষ্যৎ নীতিভ্রষ্টতা এবং তার ফলে তাদের উপরে বিচারদণ্ড নেমে আসার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। ঈশ্বর জানালেন তারা যেন এই ভবিষ্যদ্বাণীকে একটা সংগীতের আকারে সংরÿণ করে, যেন সেটা ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে সতর্কবানীরূপে কাজ করে। “পরে সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, তোমার মৃত্যুদিন আসন্ন, তুমি যিহোশুয়কে ডাক, এবং তোমরা উভয়ে সমাগম-তাম্বুতে উপস্থিত হও, আমি তাহাকে আজ্ঞা দিব। তাহাতে মোশি ও যিহোশূয় গিয়া সমাগম তাম্বুতে উপস্থিত হইলেন। আর সদাপ্রভু সেই তাম্বুতে মেঘ¯Íম্ভে দর্শন দিলেন, সেই মেঘ¯Íম্ভ তাম্বুদ্বারের উপরে স্থির থাকিল। তখন সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, তুমি আপন পিতৃপুরুষদের সহিত শয়ন করিবে, আর এই লোকেরা উঠিবে, এবং যে দেশে প্রবেশ করিতে যাইতেছে, সেই দেশের বিজাতীয় দেবগণের অনুগমনে ব্যভিচার করিবে, এবং আমাকে ত্যাগ করিবে, ও তাহাদের সহিত কৃত আমার নিয়ম ভঙ্গ করিবে। সেই সময়ে তাহাদের বিরুদ্ধে আমার ক্রোধ প্রজ্বলিত হইবে, আমি তাহাদিগকে ত্যাগ করিব ও তাহাদের হইতে আপন মুখ আচ্ছাদন করিব, আর তাহারা কবলিত হইবে, এবং তাহাদের উপরে বহুবিধ অমঙ্গল ও সঙ্কট ঘটিবে, সেই সময়ে তাহারা বলিবে, আমাদের উপর এই সম¯Í অমঙ্গল ঘটিয়াছে, ইহার কারণ কি ইহাই নয়, যে আমাদের ঈশ্বর আমাদের মধ্যবর্ত্তী নহেন? বা¯Íবিক তাহারা অন্য দেবগণের কাছে ফিরিয়া যে সকল অপকর্ম্ম করিবে, তন্নিমিত্ত সেই সময়ে আমি অবশ্য তাহাদের হইতে আপন মুখ আচ্ছাদন করিব। এখন তোমরা আপনাদের জন্য এই গীত লিপিবদ্ধ কর, এবং তুমি ইস্রায়েল-সন্তানগণকে ইহা শিক্ষা দেও, ও তাহাদিগকে মুখ¯Í করাও, যেন এই গীত ইস্রায়েল-সন্তানগণের বিরুদ্ধে আমার সাক্ষী হয়। ...” -(দ্বিতীয় বিবরণ: অনুচ্ছেদ৩১, পদ১৪-২০)। পরবর্তীতে ২২-২৯ পদে রয়েছে “ পরে মোশি সেই দিবসে ঐ গীত লিপিবদ্ধ করিয়া ইস্রায়েল-সন্তানগণকে শিক্ষা দিলেন। আর তিনি নূনের পুত্র যিহোশূয়কে আজ্ঞা দিয়া কহিলেন, তুমি বলবান হও ও সাহস কর, কেননা আমি ইস্রায়েল সন্তানগণকে যে দেশ দিতে দিব্য করিয়াছি, সেই দেশে তুমি তাহাদিগকে লইয়া যাইবে, এবং আমি তোমার সহবর্ত্তী হইব। আর মোশি সমাপ্তি পর্য্যন্ত এই ব্যবস্থার কথা সকল পু¯Íকে লিখিবার পর সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকবাহী লেবীয়দিগকে এই আজ্ঞা করিলেন, তোমরা এই ব্যবস্থাপু¯Íক লইয়া তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের পার্শ্বে রাখ, ইহা তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীর জন্য সেই স্থানে থাকিবে। কেননা তোমার বিরুদ্ধাচারিতা ও তোমার শক্তগ্রীবতা আমি জানি, দেখ, তোমাদের সহিত আমি জীবিত থাকিতেই অদ্য তোমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধাচারী হইলে, তবে আমার মরনের পরে কি না করিবে? তোমরা আপন আপন বংশের সম¯Í প্রাচীনবর্গকে ও কর্ম্মচারীকে আমার নিকটে একত্র কর, আমি তাহাদের কর্ণগোচরে এই সকল কথা বলি, এবং তাহাদের বিরুদ্ধে আকাশমন্ডল ও পৃথিবীকে সাÿী করে। কেননা আমি জানি, আমার মরনের পরে তোমরা একেবারে ভ্রষ্ট হইয়া পড়িবে, এবং আমার আদিষ্ট পথ হইতে বিপথগামী হইবে, আর উত্তরকালে তোমাদের অমঙ্গল ঘটিবে, কারণ সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যাহা মন্দ, তাহা করিয়া তোমরা আপনাদের হ¯Íকৃত কার্য্য দ্বারা তাঁহাকে অসন্তুষ্ট করিবে।” মুসা (আঃ) এর এ গীতের উপসংহারে ইস্রায়েলকে সতর্ক করা হয়েছে যে, তাদের ভবিষ্যৎ অবিশ্ব¯Íতা বিদ্রোহ ও নীতিভ্রষ্টতা জাতির উপরে ঈশ্বরের কঠোর বিচারদণ্ড নিয়ে আসবে।
পবিত্র কোরআন এবং বাইবেলের বর্ণনায় অবিশ্ব¯Í, নীতিভ্রষ্ট এবং অশান্তিসৃস্টির হোতা ইহুদীরা অভিশপ্ত এক জাতি। কোন এক উন্মাদনায় সওয়ার হয়ে পৃথিবীতে এরা বইয়ে দেয় রক্তের ধারা। তারপর আবার নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয় রহস্যের জালে। এসব নির্মম আগ্রাসন ও চাতুর্যতার স্বাক্ষী পাথর এবং বৃক্ষরাজীর ভ‚মিকাও হবে ইহুদী বিরুধী। কোথাও আশ্রয় হবেনা জেনেই হয়তো শেষ অবলম্বনের জন্য তারা ইসরাইলের ভ‚মিকে সবুজ করে তুলছে জারকাদ দিয়ে। ইহুদীবান্ধব জারকাদকেই ভেবে নিয়েছে শেষ অবলম্বন হিসেবে।